Parables of Quran

লেখাটি শেয়ার করতে পারেন

পর্ব- ২

পর্ব- ৩

পর্ব- ৪

পর্ব- ৫

পর্ব – ৬

পর্ব – ৭

পর্ব – ৮

পর্ব – ৯

পর্ব- ১০

পর্ব – ১১

পর্ব – ১২

পর্ব – ১৩

পর্ব – ১৪

আলোচ্য আয়াতে যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে রক্ষাকর্তা হিসেবে গ্রহণ করে তাদের সেই ভরসাকে মাকড়সার ঘরের মতো দুর্বল হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

যে কোনো প্রাণী ঘর তৈরি করে প্রকৃতির বৈরিতা বা শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য। অনুরূপভাবে মাকড়সাও জাল বুনে ঘরের মতো তৈরি করে কিন্তু এই জালগুলো খুবই সরু বলে তা দিয়ে তৈরি ঘর মজবুত হয় না। বাতাস, বৃষ্টি বা অন্যান্য সামান্য আঘাতে এই ঘর ভেঙ্গে যায়। তাই মাকড়সার এই ভঙ্গুর ঘর তাকে প্রকৃত সুরক্ষা দিতে পারে না।

অনুরূপভাবে যেসব ব্যক্তি মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে তাদের রক্ষাকর্তা মনে করে তারাও শেষ পর্যন্ত অরক্ষিত থেকে যায়। কারণ অন্য কোনো সত্তা বা মূর্তির ন্যূনতম ক্ষমতা নেই মানুষকে সমস্যা বা বিপদ থেকে উদ্ধার করার। একমাত্র আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, আস্থা, সবর, শোকর – এসব কিছুই পারে মানুষকে সুরক্ষা দিতে। তাই বিপদ-আপদে বিভ্রান্ত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন স্বত্তার কাছে আত্মসমর্পণ না করে একমাত্র আল্লাহর কাছে নিবেদিত হতে হবে।

আলোচ্য আয়াতে যারা আল্লাহর সাথে শরীক করে তাদেরকে এমন এক ব্যক্তির সাথে তুলনা করা হয়েছে যে আকাশ থেকে পতিত হবার পর পাখির শিকারে পরিণত হয় এবং তার সমস্ত শরীর টুকরো টুকরো হয়ে যায় অথবা কঠিন ঝড়ো হাওয়া তাকে বয়ে নিয়ে অনেক দূরে ফেলে আসে।

বস্তুত এই উপমা ব্যবহার করে এটা বোঝানো হয়েছে যে, তাওহিদ বা একত্ববাদের মহত্ত্ব আকাশের মতো সুউচ্চ ও বিশাল। এই একত্ববাদ থেকে যে বিচ্যুত হয়ে যায় সে আকাশ থেকে ভূপাতিত হওয়ার মতোই শিরকের অতল গহবরে পতিত হয়। এরপর সে শয়তানের শিকারে পরিণত হয়, তার অন্তর ছিন্ন- বিচ্ছিন্ন হয়ে এক আল্লাহর আনুগত্য থেকে ভিন্ন ভিন্ন স্বত্ত্বার দাসে পরিণত হয়।

কখনো সে স্বীয় প্রবৃত্তির পূজা করা শুরু করে যা তাকে এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিমুখ করে রাখে। এভাবে সে জান্নাত থেকে বহুদূরে চলে যায়। তার অবস্থান হয় জাহান্নামে।

মহান আল্লাহ আমাদের এইরূপ পতিত ব্যক্তি হওয়া থেকে রক্ষা করুন । আমীন।


লেখাটি শেয়ার করতে পারেন