ভূমিকা
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বহুবিধ সমস্যা থেকে পরিত্রানের জন্য আমরা নানা কিছুর শরণাপন্ন হই। কিন্তু আমরা কি কুরআনের কাছে ছুটে যাই? অথচ আল্লাহ তা’লা কুরআনকে আমাদের জন্য শিফা হিসেবে পাঠিয়েছেন যেটা আমরা কুরআন থেকেই জানতে পারছি-
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ ۙ
”আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত।” [সূরা ইসরা (১৭:৮২)]
يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُم مَّوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِّمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ
“হে মানবকুল !! তোমাদের কাছে উপদেশবাণী এসেছে তোমাদের পরওয়ারদিগারের পক্ষ থেকে এবং অন্তরের রোগের নিরাময়, হেদায়েত ও রহমত মুসলমানদের জন্য। ” [সূরা ইউনুস ১০:৫৭)]
قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ ۖ
“বলুন, এটা বিশ্বাসীদের জন্য হেদায়েত ও রোগের প্রতিকার। ”
[সূরা ফুসসিলাত (৪১:৪৪)]
এখানে উল্লিখিত ৩ টি আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, পুরো কুরআনটাই আমাদের জন্য শিফা। তাই যে কোনো সমস্যায় আমাদের কুরআনের কাছে ছুটে যাওয়া উচিৎ, কুরআনের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার জন্য কুরআনের তিলাওয়াত শুদ্ধ করা, অর্থ জানা, সেগুলোর উপরে আমল করা ইত্যাদির ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিৎ।
এছাড়াও কুরআন থেকে উপকার পাওয়ার আরও উপায় আছে-
- কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করে সেটা পড়ে নিজে বা অন্যের শরীরে ফুঁ দেয়া
- কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করে সেটা পানিতে ফুঁ দিয়ে সেই পানি খাওয়া/ খাওয়ানো
- কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করে সেটা রান্নার তেলে ফুঁ দিয়ে সেই তেল রান্নার কাজে ব্যবহার করা
- কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করে সেটার রেফারেন্স দিয়ে দুআ করা
এসব ক্ষেত্রে কোন আয়াতগুলো ব্যবহার করবো?
যে কোনো সমস্যার জন্য সাধারণভাবে আমরা নিজের আয়াতগুলো তিলাওয়াত করতে পারি-
১) সূরা ফাতিহা
২) আয়াতুল কুরসী
৩) সূরা নাস
৪) সূরা ফালাক্ব
৫) সূরা ইখলাস
৪) উপরের আয়াতগুলো যেখানে কুরআনকে শিফা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে- সূরা ইসরা (১৭:৮২), সূরা ইউনুস ১০:৫৭, সূরা ফুসসিলাত ৪১:৪৪
এখানে মনে রাখতে হবে যে, শুধু অন্ধের মতো আরবীটা তিলাওয়াত করলে যতটা না উপকার হবে, তার চেয়ে বেশী উপকার হবে যদি আমরা অর্থটা বুঝে সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করে তারপর রুকইয়া করি।
এ তো গেল সাধারণভাবে রোগ মুক্তি বা যে কোনো সমস্যার জন্য রুকইয়া করা। তবে আমাদের নির্দিষ্ট সমস্যার জন্য কুরআনের প্রাসঙ্গিক আয়াতের রেফারেন্স দিয়ে দুয়া করলে/রুকইয়া করলে অধিক কার্যকরী ফল লাভ সম্ভব ইনশাআল্লাহ। ঠিক যেমন বিশেষ সমস্যার জন্য বিশেষজ্ঞ ডক্টরের শরণাপন্ন হই (দাঁতের চিকিৎসার জন্য ডেন্টিস্ট, চর্ম রোগের চিকিৎসার জন্য যাই চর্ম বিশেষজ্ঞের কাছে), এখানেও ব্যাপারটা তেমন।
পরবর্তী পর্বগুলোতে বেশ কিছু উদাহরণ দেয়া হয়েছে যা গাইডলাইন হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
পর্ব ১: বাচ্চার দেরীতে কথা বলা
বর্তমান সময়ে দেরীতে কথা বলা বাচ্চাদের একটি বহুল প্রচলিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা সাধারণত স্পিচ থেরাপিস্টের কাছে নিয়ে যাই, তাদের দেয়া পরামর্শ যেমন-স্ক্রিন টাইম কমানো, বাচ্চার সাথে নিজে প্রচুর কথা বলা, তার প্রয়োজন বুঝতে পারছি না এমন ভাব করে কথা বলতে বাধ্য করা, সোশ্যালাইজেশন বাড়ানো–ইত্যাদি মেনে চলার পাশাপাশি আমরা স্পিরিচুয়াল দিক থেকেও আমল করতে পারি।
এক্ষেত্রে নিচের আয়াতগুলো রুকইয়া হিসেবে ও এগুলোর রেফারেন্স টেনে দুআ করা যেতে পারে। এখানে উল্লেখ্য যে, এইসব দুআ করলে পরের দিনই বাচ্চা কথা বলা শুরু করে দিবে ব্যাপারটা এমন না অবশ্যই। আয়াতগুলো কতবার, কখন পড়তে হবে সেটার কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই, তবে অবশ্যই নিয়মিত পড়তে হবে, হাল ছাড়া যাবে না। তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায় দুনিয়াবী যত প্রচেষ্টা আছে সেগুলোতে বরকত আসবে ইনশাআল্লাহ।
উদাহরণ ১: সূরা ত্বাহা [২০:২৫-২৮]
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي ﴿٢٥﴾
وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي ﴿٢٦﴾
وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِي ﴿٢٧﴾
يَفْقَهُوا قَوْلِي ﴿٢٨﴾
“মূসা বললেন, হে আমার পালনকর্তা! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন। এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। এবং আমার জিহবা থেকে জড়তা দূর করে দিন। যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। ”
যেভাবে দুআ করতে পারি (উদাহরণ)
হে আমার রব! হে আল গাফুর! তুমি নিজ গুণে তোমার এই বন্দাকে ক্ষমা করো।
হে আল জব্বার! হে আল আজীজ! হে আল ক্বাদীর ! এমন কিছুই নাই যা তুমি পারো না। এমন কিছুই নাই যা তোমার ক্ষমতার বাইরে। তুমি “হও” বললেই তা হয়ে যায়। তোমার অসীম রহমত আর ক্ষমতার কল্যাণে আল্লাহ তুমি আমার সন্তানের মুখে কথা ফুটিয়ে দাও। তার জিহবার জড়তা দূর করে দাও যেমন করে তুমি দূর করেছিলে মূসা (আঃ)-এর জিহবার জড়তা। যেন সে সাবলীল ভাবে তোমার কালাম কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে। তোমার বাণী অন্যের কাছে পৌছে দেওয়ার উসিলা হতে পারে। তার মুখের কথা যেন বহু মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌছানোর উসিলা হতে পারে।
হে আল বারী! আমার সন্তানের মুখে বুলির জন্ম দাও।
হে আল ফাত্তাহ ! তার জন্য কথা বলা সহজ করে দাও।
হে আল মুজীব! নিজের নামের উসিলায় এই দুআ তুমি কবুল করো।
উদাহরণ ২: সূরা আর রাহমান [৫৫:৪]
عَلَّمَهُ الْبَيَانَ
তাকে শিখিয়েছেন বর্ণনা।
যেভাবে দুআ করতে পারি (উদাহরণ)
হে আর রাহমান ! তুমি তোমার অনুগ্রহে মানুষকে সৃষ্টি করেছ। তাকে ভাষা শিখিয়েছ। হে রব এই অনুগ্রহ থেকে আমার সন্তানকে দূরে রেখো না। তারও মুখে বুলি ফুটিয়ে দাও, তাকেও কথা বলা শিখিয়ে দাও। তোমার আর রাহমান নামের উসিলায় এই অনুগ্রহ থেকে আমার সন্তানকে বঞ্চিত করো না। তুমিতো নিজেই বলেছ তুমি মানুষকে সৃষ্টি করেছ তারপর তাকে ভাষা শিখিয়েছ। আমার সন্তানতো তোমারই সৃষ্টি তাকেও ঠিক সেইভাবে ভাষা শিখিয়ে দাও যেভাবে মানুষকে ভাষা শিখিয়ে দেয়ার কথা তুমি আর রাহমান সুরায় বলেছ। নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক, সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহকারী।
উদাহরণ ৩: সূরা বালাদ [৯০:৮-৯]
أَلَمْ نَجْعَل لَّهُ عَيْنَيْنِ ﴿٨﴾
وَلِسَانًا وَشَفَتَيْنِ
“ আমি কি তাকে দেইনি চক্ষুদ্বয়, জিহবা ও ওষ্ঠদ্বয় ? ”
যেভাবে দুআ করতে পারি (উদাহরণ)
হে আমার রব! হে আর রউফ! হে আল খালিক! হে মুসাওউইর (musawwir)!
তুমি মানুষকে সবচেয়ে উত্তমরুপে সৃষ্টি করেছ। তাকে চোখ দিয়েছ। দিয়েছ জিহবা ও ওষ্ঠ। এই সবই তোমার নিয়ামত। এই নিয়ামত কে তোমার দীনের কাজে লাগানোর শক্তিও দান করো হে আল কাবীর। আমার সন্তানের জিহ্বায় শক্তি দাও যেন সে কথা বলতে পারে। তোমার কালাম তিলাওয়াত করতে পারে। তার মুখের ভাষা সৃষ্টির ক্ষমতা কেবল তোমার হে আল বারী। তার মুখের ভাষা যেন তোমার কালামকে তোমার ইচ্ছায় তোমার জমীনে ছড়িয়ে দেওয়ার উসিলা হয়। তার মুখের ভাষার মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত যেন দিক থেকে দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে।
হে আল জাব্বার ! তুমি তো সব পারো, আমার সন্তানের জন্য কথা বলতে পারাকেও সহজ করে দাও।
উদাহরণ ৪: সূরা নূর [২৪:২৪]
يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُم بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
“ যেদিন প্রকাশ করে দেবে তাদের জিহবা, তাদের হাত ও তাদের পা, যা কিছু তারা করতো। ”
যেভাবে দুআ করতে পারি (উদাহরণ)
হে আমার রব! হে আল জাব্বার! হে আল আজীজ!
তুমিইতো শেষ বিচারের দিন আমাদের জিহবা, হাত, পা-কে আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার ক্ষমতা রাখো। আমাদের শরীরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তোমার অধীন তুমি চাইলেই যেকোনো সময় যেকোনো অচল অঙ্গকে সচল করে তুলতে পারো। আমার সন্তানের কন্ঠ, জিহবা, ওষ্ঠ সব তোমার কথা শুনতে বাধ্য। তুমি তার এই অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কর্মক্ষম করে দাও। যেন সে কথা বলতে পারে। তার ভাষার বিকাশ করো যেন সে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে, অন্যকে কুরআন তিলাওয়াত শেখাতে পারে, উত্তম ভাষার ব্যবহার দিয়ে ইসলামের আলো ছড়ানোর উসিলায় পরিণত হতে পারে।
হে আমার রব! তাকে সুযোগ দাও যেন সে কথা বলার ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে নিজের জন্য শেষ বিচারকে সহজ করে তুলতে পারে। তার জিহবা যেন তার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়। তার জিহবা যেন কুরআন তিলাওয়াত, উত্তম ভাষা তথা আখলাক ও দীনের দাওয়াতের সাক্ষী হয়ে উঠে শেষ বিচারের দিনে।
হে আল আদল! তুমি তো ন্যায় বিচারক, আমার সন্তানকে তার কন্ঠ,জিহবা ব্যবহারের মাধ্যমে নেকী অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করোনা।
উদাহরণ ৫: সূরা হা মীম সিজদাহ [৪১:২১]
وَقَالُوا لِجُلُودِهِمْ لِمَ شَهِدتُّمْ عَلَيْنَا ۖ قَالُوا أَنطَقَنَا اللَّهُ الَّذِي أَنطَقَ كُلَّ شَيْءٍ وَهُوَ خَلَقَكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ
وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
“ তারা তাদের ত্বককে বলবে, তোমরা আমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিলে কেন? তারা বলবে, যে আল্লাহ সব কিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন, তিনি আমাদেরকেও বাকশক্তি দিয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।”
যেভাবে দুআ করতে পারি (উদাহরণ)
হে আমার রব !হে আল মালিক ! হে আল জব্বার !হে আল আজীজ !
তুমি তো সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তুমি তো আমাদের চামড়াকেও বাকশক্তি দেওয়ার ক্ষমতা রাখো। সেই একই ক্ষমতার কল্যাণে তুমি আমার সন্তানের জিহবাকে সচল করে দাও। তার কন্ঠকে বাকশক্তি দাও। তোমার দেওয়া এই নিয়ামত এই ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে নিজের শেষ বিচারের হিসাব সহজ করার সুযোগ তাকেও দাও।
হে আল গফুর! হে আল আফু! তাকে বাকশক্তি দাও যেন সে নিজের বাকশক্তিকে ব্যবহার করে দীন ইসলামের কাজে লাগাতে পারে। এই ফিতনার যুগে পেশী শক্তির চেয়ে কখনো কখনো বাকশক্তি বেশি কার্যকর। ইসলামের শত্রুরা কথার কারুকার্যে, যুক্তিতর্কের আড়ালে নানানভাবে ইসলামকে অবমাননা করে, প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাদেরকে রুখে দেওয়ার জন্য এমন উম্মাহ প্রয়োজন যারা বাকশক্তিতে পারদর্শী। তুমি আমার সন্তনাকেও তেমনি পারদর্শিতা দান করো। যে কথা বলতে পারে না তার জন্য বাকপটু হওয়ার প্রার্থনা হে আল ওয়াহাব শুধু তোমার কাছেই করা যায়। তুমি তো দিতে পছন্দ করো আমার সন্তানকেও এই নিয়ামত দান করো।
উদাহরণ ৬: সূরা আলাক্ব [৯৬:১-৫]
خَلَق قْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي
خَلَقَ الْإِنسَانَ مِنْ عَلَقٍ ﴿٢﴾
اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ ﴿٣﴾
الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ ﴿٤﴾
عَلَّمَ الْإِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ﴿٥﴾
“পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন । সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন,শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানতো না। ”
যেভাবে দুআ করতে পারি (উদাহরণ)
আল্লাহ মানুষ যা জানত না তা তাকে যেমন জানিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন।তেমনি আল্লাহ মানুষের সকল অক্ষমতা দূর করার ক্ষমতা রাখেন।সেই ক্ষমতার উসিলায় হে আল জাব্বার !হে আল আজীজ ! আপনি আমার সন্তানের কথা বলার অক্ষমতাকে দূর করে দিন। তাকে বাক শক্তি দিন হে আল কাদীর! তার কণ্ঠে বুলি ফুটিয়ে দিন, হে আল বারী! তার ভাষার বিকাশ ঘটান হে আল ওয়াসি !
উদাহরণ ৭: সূরা নামল [২৭:১৬]
وَوَرِثَ سُلَيْمَانُ دَاوُودَ ۖ وَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ عُلِّمْنَا مَنطِقَ الطَّيْرِ وَأُوتِينَا مِن كُلِّ شَيْءٍ ۖ إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ الْفَضْلُ الْمُبِينُ
“সুলায়মান দাউদের উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘হে লোক সকল, আমাকে উড়ন্ত পক্ষীকূলের ভাষা শিক্ষা দেয়া হয়েছে এবং আমাকে সব কিছু দেয়া হয়েছে। নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব। ”
যেভাবে দুআ করতে পারি (উদাহরণ)
হে আমার রব ! হে আল আজীজ ! হে আল মালিক ! আপনি সকল নিয়ামতের আধার। আপনিই সুলায়মান (আঃ)-কে দান করেছিলেন এমন হাজারো নিয়ামত। এমন একটি নিয়ামত হলো তাকে পাখির ভাষা শেখানো।
হে রব ! আপনি যেমন সুলায়মানকে পাখির ভাষা শেখাতে সমর্থ সেইরকম করে আপনিই কেবল আমার সন্তানের মুখের ভাষা ফোটাতে সক্ষম। আমার জিহবার জড়তা কেবল আপনিই দূর করতে পারেন ইয়া আল ফাত্তাহ। সুলায়মানকে যেমন পাখির ভাষা বুঝার নিয়ামত দিয়েছিলেন আমার সন্তানকে নিজের ভাষা বুঝিয়ে বলার ক্ষমতা দান করুন এই নিয়ামত দান করুন যেন সেও সুলায়মান এর মতো আপনার প্রদেয় নিয়ামতের হক রক্ষা করতে পারে। নিজের ভাষার ব্যবহার করে আল্লাহর দীনের খিদমত করতে পারে। কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে, অপরকে তিলাওয়াত শেখাতে পারে, ইসলামের বাণী মানুষের কাছে পৌছে দেওয়ার উসিলা হতে পারে।
উদাহরণ ৮: সূরা রুম [৩০:২২]
وَمِنْ آيَاتِهِ خَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَانِكُمْ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّلْعَالِمِينَ
“তাঁর আরও এক নিদর্শন হচ্ছে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃজন এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয় এতে জ্ঞানীদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। ”
যেভাবে দুআ করতে পারি (উদাহরণ)
হে আমার রাব্বী ! হে আল মালিক ! হে আল খালিক ! তোমার অফুরন্ত সৃষ্টির মাঝেই রয়েছে তোমার নিদর্শন। মানুষের ভাষা তোমার এমন এক সৃষ্টি যার মাঝে তুমি লুকিয়ে রেখেছ তোমার নিদর্শন। আমার সন্তানকে এই নিদর্শন থেকে তুমি বঞ্চিত করোনা। তাকে ভাষা শেখার ক্ষমতা দাও যেন সে তোমার নিদর্শন চিনতে পারে আর সে অনুযায়ী সঠিক পথে চলতে পারে।
পর্ব ২: হাড়ের সমস্যা জনিত ব্যথা বা জটিলতা
শরীরের যে কোনো হাড় সংক্রান্ত ব্যথা বা অন্যান্য জটিলতা থেকে শিফার জন্য আমরা সেইসব আয়াত ব্যবহার করবো যেখানে অস্থি অথবা হাড় শব্দটার উল্লেখ আছে। তবে এখানে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, এইভাবে রুকইয়া করা/রেফারেন্স টেনে দুআ করার সাথে সাথেই ম্যাজিকের মতো সব ব্যথা বেদনা দূর হয়ে যাবে কিংবা হাড় জোড়া লেগে যাবে অবশ্যই ব্যাপারটা এমন না। আমরা ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলবো (যেমনঃ ওজন কমানো, ব্যায়াম করা ইত্যাদি), সেই সাথে স্পিরিচুয়াল দিক থেকে এইভাবে কুরআনের মাধ্যমে শিফা চাইবো, তাহলে দেখবো ইনশাল্লাহ যে দুনিয়াবী প্রচেষ্টা গুলোতে বরকত আসছে।
হাড় শব্দটা উল্লেখিত আছে এমন কুরআনের আয়াতসমূহ
হাড় শব্দটা কুরআনে মূলত তিন প্রসংগে এসেছে। এই প্রসংগ জানা থাকলে আমাদের জন্য কার্যকরীভাবে রুকইয়া করতে ও দুআ বানাতে সহজ হবে ইনশাআল্লাহ।
প্রসংগ ১:
মাতৃগর্ভে ভ্রুণের বিভিন্ন ধাপ বর্ণনা প্রসংগে, যেটা ১৪৫০ বছর আগে নাযিল হওয়া গ্রন্থে উল্লেখ থাকা রীতিমত একটা মিরাকল।
সূরা আল মুমিনূন- ২৩:১৪
ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ أَنشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ ۚ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ﴿١٤﴾
“এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি, এরপর সেই মাংসপিন্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি, অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি, অবশেষে তাকে নতুন রূপে দাঁড় করিয়েছি। নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কতো কল্যাণময়। ”
যেভাবে দুআ করতে পারি (উদাহরণ)
ইয়া রাব্বি ! ইয়া খালিক্ব ! কী অসাধারণভাবে তুমি তুচ্ছ শুক্রবিন্দু থেকে ধাপে ধাপে আমাদের সৃষ্টি করেছো, আমাদের শরীরের প্রতিটা অণু, পরমাণু তোমার আজ্ঞাধীন। তোমার বরকতময় নাম ও কুদরতের উসীলায় তুমি আমার শরীরের হাড় হাড্ডি সমূহ শক্তিশালী করে দাও, ব্যথা বেদনা দূর করে দাও এবং সেই নতুন করে পাওয়া শক্তি দিয়ে পুনরুদ্যমে তোমার ইবাদাত করার তৌফিক দাও, আমি যেন ঠিকমত সালাতে রুকু, সিজদাহ করতে পারি সেই সক্ষমতা দান করো ইয়া আল ওয়াহহাব।
প্রসংগ ২:
যাকারিয়া আলাইহিস সালামের দুআ প্রসংগে যখন তিনি সন্তানের জন্য দুআ করার সময় নিজের ক্ষয়িষ্ণু হাড়ের কথা উল্লেখ করেছিলেন। এখান থেকে আমরা দুআর একটা আদব জানতে পারি- নিজের দুর্বলতার কথা আল্লাহকে বলা।
সূরা মারইয়াম [১৯:৪]
الَ رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا وَلَمْ أَكُن بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا
“সে বলল, হে আমার পালনকর্তা ! আমার অস্থি বয়স-ভারাবনত হয়েছে; বার্ধক্যে মস্তক সুশুভ্র হয়েছে; হে আমার পালনকর্তা ! আপনাকে ডেকে আমি কখনও বিফলমনোরথ হইনি। ”
যেভাবে দুআ করতে পারি (উদাহরণ)
হে আমার রব ! তুমিতো আস সামি যে সব শোনে, আল মুজিব যে শুধু শোনেই বরং বান্দার ডাকে সাড়াও দেয়। যেভাবে যাকারিয়া (আঃ)-এর দুর্বল হাড়, সাদা চুল, বৃদ্ধ বয়স সকল কিছুর পরও তুমি তাকে সন্তান দান করেছ। তাকে তুমি ফিরিয়ে দাওনি, হে আল ওয়াহহাব ! তুমি আমাকেও ফিরিয়ে দিও না। আমিও এই আশায় আজ তোমার কাছে হাত তুলেছি যে আমারও ডাক বিফলে যাবে না। তুমি আমার দুর্বল হাড়ে শক্তি দাও হে আল কাওয়ি (Quawiyy)! আমার ভাঙ্গা হাড় জুড়ে দাও হে আল জামি, ক্ষয়ে যাওয়া হাড়ে প্রান দাও হে আল বাইথ ! নিশ্চয়ই তোমার বান্দারা তোমাকে ডেকে কখনো নিরাশ হয়না।
প্রসংগ ৩:
কুরআনে সবচেয়ে বেশীবার যে প্রসংগে হাড় শব্দটা এসেছে সেটা হচ্ছে অস্থি-হাড় গুড়া হওয়া, ভেঙ্গে যাওয়া, গলিত অবস্থা থেকে পুনরুত্থান দিবসে আবার নতুন করে আমাদের সৃষ্টি করার কথা বলতে গিয়ে এই সম্পর্কিত সবগুলো আয়াত নিচে একসাথে করে দেয়া হলো-
সূরা আল মুমিনূন [২৩: ৩৫]
أَيَعِدُكُمْ أَنَّكُمْ إِذَا مِتُّمْ وَكُنتُمْ تُرَابًا وَعِظَامًا أَنَّكُم مُّخْرَجُونَ﴿٣٥﴾
“সে কি তোমাদেরকে এই ওয়াদা দেয় যে, তোমরা মারা গেলে এবং মৃত্তিকা ও অস্থিতে পরিণত হলে তোমাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে? ”
# সূরা আল মুমিনূন [২৩: ৮২]
قَالُوا أَإِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَإِنَّا لَمَبْعُوثُونَ
“তারা বলে, যখন আমরা মরে যাব এবং মৃত্তিকা ও অস্থিতে পরিণত হবো, তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হবো ? ”
# সূরা ইয়াসিন [৩৬ঃ ৭৮-৭৯]
وَضَرَبَ لَنَا وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَنَسِيَ خَلْقَهُ ۖ قَالَ مَن يُحْيِي الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ﴿٧٨﴾ قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ ۖ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ﴿٧٩﴾
“সে আমার সম্পর্কে এক অদ্ভূত কথা বর্ণনা করে, অথচ সে নিজের সৃষ্টি ভুলে যায়। সে বলে কে জীবিত করবে অস্থিসমূহকে যখন সেগুলো পচে গলে যাবে? বলুন, যিনি প্রথমবার সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই জীবিত করবেন। তিনি সর্বপ্রকার সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত। ”
# সূরা আস সাফফাত [৩৭:১৬]
أَإِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَإِنَّا لَمَبْعُوثُونَ﴿١٦﴾
“আমরা যখন মরে যাব, এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হয়ে যাব, তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হবো? ”
# সূরা আস সাফফাত [৩৭:৫২-৫৩]
يَقُولُ أَإِنَّكَ لَمِنَ الْمُصَدِّقِينَ
أَإِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَإِنَّا لَمَدِينُونَ
“বলোতো, তুমি কি বিশ্বাস কর যে, আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব, তখনও কি আমরা প্রতিফল প্রাপ্ত হব? ”
# সূরা ওয়াকিয়া [৫৬-৪৭]
(٤٧)وَكَانُوا يَقُولُونَ أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَإِنَّا لَمَبْعُوثُونَ
“ তারা বলতো, আমরা যখন মরে অস্থি ও মৃত্তিকায় পরিণত হয়ে যাব, তখনও কি পুনরুত্থিত হবো? ”
# সূরা কিয়ামাহ [৭৫:৩-৪]
أَيَحْسَبُ الْإِنسَانُ أَلَّن نَّجْمَعَ عِظَامَهُ﴿٣﴾
بَلَىٰ قَادِرِينَ عَلَىٰ أَن نُّسَوِّيَ بَنَانَهُ﴿٤﴾
“মানুষ কি মনে করে যে আমি তার অস্থিসমূহ একত্রিত করব না? উপরন্তু আমি তার অংগুলিগুলো পর্যন্ত সঠিকভাবে সন্নিবেশিত করতে সক্ষম।”
# সূরা আন নাজিয়াত [৭৯:১০-১১]
يَقُولُونَ أَإِنَّا لَمَرْدُودُونَ فِي الْحَافِرَةِ﴿١٠﴾
أَإِذَا كُنَّا عِظَامًا نَّخِرَةً﴿١١﴾
“তারা বলছে,’আমরা কি সত্যিই প্রথমাবস্থায় প্রত্যাবর্তিত হবো? ‘যখন আমরা গলা-পচা, হাড্ডি হয়ে যাব তখনও? ”
# সূরা আল ইসরা [১৭:৪৯]
وَقَالُوا أَإِذَا كُنَّا عِظَامًا وَرُفَاتًا أَإِنَّا لَمَبْعُوثُونَ خَلْقًا جَدِيدًا﴿٤٩﴾
“ আর তারা বলে, ”কি! আমরা যখন হাড্ডি ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাব, তখন কি আমরা নতুন সৃষ্টিতে পুনরুত্থিত হবো?’’
# সূরা বাক্বারা [২:২৫৯]
وْ كَالَّذِي مَرَّ عَلَىٰ قَرْيَةٍ وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَىٰ عُرُوشِهَا قَالَ أَنَّىٰ يُحْيِي هَٰذِهِ اللَّهُ بَعْدَ مَوْتِهَا ۖ فَأَمَاتَهُ اللَّهُ مِائَةَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهُ ۖ قَالَ كَمْ لَبِثْتَ ۖ قَالَ لَبِثْتُ يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ ۖ قَالَ بَل لَّبِثْتَ مِائَةَ عَامٍ فَانظُرْ إِلَىٰ طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمْ يَتَسَنَّهْ ۖ وَانظُرْ إِلَىٰ حِمَارِكَ وَلِنَجْعَلَكَ آيَةً لِّلنَّاسِ ۖ وَانظُرْ إِلَى الْعِظَامِ كَيْفَ نُنشِزُهَا ثُمَّ نَكْسُوهَا لَحْمًا ۚ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ قَالَ أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِير
“তুমি কি সে লোককে দেখনি যে এমন এক জনপদ দিয়ে যাচ্ছিল যার বাড়ীঘরগুলো ভেঙ্গে ছাদের উপর পড়ে ছিল? বলল, কেমন করে আল্লাহ মরণের পর একে জীবিত করবেন? অতঃপর আল্লাহ তাকে মৃত অবস্থায় রাখলেন একশ বছর। তারপর তাকে উঠালেন। বললেন, কত কাল এভাবে ছিলে? বলল আমি ছিলাম, একদিন কংবা একদিনের কিছু কম সময়। বললেন, তা নয়; বরং তুমি তো একশ বছর ছিলে। এবার চেয়ে দেখ নিজের খাবার ও পানীয়ের দিকে-সেগুলো পচে যায় নি এবং দেখ নিজের গাধাটির দিকে। আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত বানাতে চেয়েছি। আর হাড়গুলোর দিকে চেয়ে দেখ যে, আমি এগুলোকে কেমন করে জুড়ে দেই এবং সেগুলোর উপর মাংসের আবরণ পরিয়ে দেই। অতঃপর যখন তার উপর এ অবস্থা প্রকাশিত হলো, তখন বলে উঠল-আমি জানি, নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল। ”
*****এই আয়াতটা চাইলে আমরা স্কিপ করতে পারি, আবার দুআ করার সময় উযাইর আলাইহিস সালামের গাধা পচে গলে হাড় হয়ে যাওয়ার পরও আবার যেভাবে জুড়ে দিয়েছিলে সেভাবে আমাকে সুস্থ করে দাও এভাবেও দুআ করতে পারি।
যেভাবে দুআ করতে পারি (উদাহরণ)
হে রব ! হে আল মুতাকাব্বির ! হে আল মালিক ! সকল প্রশংসা তোমার। হে আমার রব! হে আল গাফুর! তুমি নিজ গুণে তোমার বান্দাকে ক্ষমা করো।
হে আল জব্বার ! হে আল আজীজ !হে আল ক্বাদীর !এমন কিছুই নাই যা তুমি পারো না। এমন কিছুই নাই যা তোমার ক্ষমতার বাইরে। তুমি “হও” বললেই তা হয়ে যায়। আসমান আর যমীনের সকল কিছুই তোমার অধীন। এমনকি আমার এই শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনকারী অস্থি-মাংস-রক্ত কণা সবকিছুই তোমার সৃষ্টি হে আল খালিক, তোমার মুখাপেক্ষি হে আল মুক্তাদির। তুমি এই বিন্দু বীর্য থেকে নানান স্তরে আমার এই শরীরকে আকার দিয়েছ, সবচেয়ে উত্তমরুপে গড়ে দিয়েছ হে আল মুসাওইর (Musawwir)। তোমার ইচ্ছায় এই শরীর একদিন মাটিতে মিশে যাবে আবার তোমার নির্দেশেই মাটি থেকে আবার জীবিত হবে পুনরূত্থান দিবসে।
হে আল জব্বার ! তুমি যেভাবে পুনরুত্থান দিবসে আমার গলিত হাড়ে জীবন সঞ্চারে সক্ষম, ঠিক একইভাবে আমার ক্ষয় হয়ে যাওয়া হাড়েও জীবন সঞ্চার করো !
হে আল বাইথ ! নতুন হাড় তৈরী করে দাও। আমার হাড়ের ক্ষয় রোধ করে দাও। আমার দুর্বল- ভঙ্গুর হাড়কে ক্ষয় হওয়া আর ভেঙ্গে জাওয়া থেকে সংরক্ষণ করো হে আল হাফিয। আমার দুর্বল হাড়ে শক্তি দাও হে আল কাওই (Al-Qawiyy)।
হে আল মুঈদ ! তুমিতো নিজেই বলেছ যে তুমি চূর্ণবিচূর্ণ হাড় জোড়া লাগাতে সক্ষম ঠিক একই ক্ষমতা বলে আমার ভেঙ্গে যাওয়া হাড় জোড়া লাগিয়ে দাও। মাটিতে মিশে যাওয়া হাড় যেখানে তুমি একত্র করতে পারো সেখানে আমার এই সামান্য বোন ফ্রাকচার সাড়িয়ে তোলা তোমার অসীম ক্ষমতার কাছে যৎসামান্যই বটে হে আল জামি। তুমি তোমার ক্ষমতার গুণে আমার অসুস্থ হাড়কে সুস্থতা দান করো হে আশ শাফি। আমার হাড়ের ব্যথা প্রশমিত করো হে আল খাফিদ। পুনরুত্থান দিবসের আগেই আমার হাড়কে সুস্থতা দাও যেন আমি তোমার ইবাদত ঠিক সেভাবে করতে পারি যেভাবে তুমি পছন্দ করো। মাটিতে সেজদা দিতে দেওয়া, দীর্ঘ সময় কিয়াম করা, রুকু করা, সন্তানকে কোলে নেওয়া, দুধ খাওয়ানো- এইসকল শারীরিক ইবাদত যা হাড় ব্যাথার জন্য অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে তা আমার জন্য সহজ করে দাও হে আর রউফ। তোমার আর তোমার বান্দার হক আদায় যা এই হাড়ের ব্যাথার জন্য বিঘ্নিত হচ্ছে সেই বিঘ্ন দূর করে দাও ।
হে আল ফাত্তাহ! আমার সুস্থতার দ্বার উন্মোচন করে দাও।
হে আমার রব ! হে আল গাফুর ! তুমি নিজ গুণে তোমার বান্দাকে ক্ষমা করো।
হে আল জব্বার! হে আল আজীজ ! হে আল ক্বাদীর !এমন কিছুই নাই যা তুমি পারোনা। এমন কিছুই নাই যা তোমার ক্ষমতার বাইরে। তুমি “হও” বললেই তা হয়ে যায়। ঠিক তেমনি অনুগ্রহ হে রব আমার উপরও করো, তুমি আমার হাড়ের শেফার জন্যও ”হও” বলে দাও। তোমার করুণা, তোমার ক্ষমতার নিদর্শন বিশ্বাসীদের জন্য তুমি নিজেই বলেছ। হে রব আমিও তো তোমার বিশ্বাসী বান্দা, তোমার আয়াত থেকে শেফা পাওয়ার মুখাপেক্ষী তাহলে আমাকে সেই করুণা আর তোমার নিদর্শন থেকে বঞ্চিত করোনা। আমার হাড়ের রোগ থেকে আমাকে শেফা দান করো হে আশ শাফী।
পর্ব ৩ : স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ইবলীস (শায়ত্বন (শয়তান)) সমুদ্রের পানির উপর তার সিংহাসন স্থাপন করে। অতঃপর মানুষের মধ্যে ফিতনাহ্ (ফিতনা)-ফাসাদ সৃষ্টি করার জন্য সেখান থেকে তার বাহিনী চারদিকে প্রেরণ করে। এদের মধ্যে সে শায়ত্বন (শয়তান)ই তার নিকট সর্বাধিক সম্মানিত যে শায়ত্বন (শয়তান) মানুষকে সবচেয়ে বেশী ফিতনায় নিপতিত করতে পারে। তাদের মধ্যে একজন ফিরে এসে বলে, আমি এরূপ এরূপ ফিতনাহ্ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করেছি। তখন সে (ইবলীস) প্রত্যুত্তরে বলে, তুমি কিছুই করনি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, অতঃপর এদের অপর একজন এসে বলে, আমি মানব সন্তানকে ছেড়ে দেইনি, এমনকি দম্পতির মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ করে দিয়েছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, শায়ত্বন (শয়তান) এ কথা শুনে তাকে নিকটে বসায় আর বলে, তুমিই উত্তম কাজ করেছো। বর্ণনাকারী আ’মাশ বলেন, আমার মনে হয় জাবির (রাঃ) এটাও বলেছেন যে, ’’অতঃপর ইবলীস তার সাথে আলিঙ্গন করে’’। (মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : মুসলিম ২৮১৩, সহীহাহ্ ৩২৬১, সহীহ আত্ তারগীব ২০১৭, আহমাদ ১৪৩৭৭।
উপরের হাদীসটার কথা হয়তো আমরা অনেকেই জানি কিন্তু কখনো কি এটা নিয়ে চিন্তা করে দেখেছি যে কেন শয়তান স্বামী স্ত্রীর মাঝে ঝামেলা সৃষ্টির ব্যাপারটায় সবচেয়ে খুশী হয়?
বিয়ে- একটা পবিত্র বন্ধন যার মাধ্যমে দুইজন মানুষ পরিণত বয়সে এসে একসাথে থাকা শুরু করেন, সাধারণত যাদের বেড়ে ওঠা হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটো পরিবেশে। এখানে রক্তের কোনো সম্পর্ক নেই, অথচ এই দুজনের মাঝে আল্লাহ এমন একটা সম্পর্ককে বৈধ করেছেন যা অন্য কোনো মানুষের সাথে জায়িজ নেই। এর মাধ্যমে মানুষ তার জৈবিক চাহিদা হালালভাবে পূরণ করার সুযোগ পায়, বংশ বৃদ্ধি ঘটে সর্বোপরি পরবর্তী প্রজন্মের বেড়ে ওঠার পরিবেশ রচিত হয় এই সম্পর্কের মাধ্যমে। বিয়ে তাই শুধু দুজন মানুষের সম্পর্ক নয় বরং এটা একটা প্রতিষ্ঠান যা বৃহত্তর সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে।
আর ঠিক এইজন্যই শয়তান এই সম্পর্ক বিচ্ছেদের ব্যাপারে এত আগ্রহী। একটা সমাজে যদি বিয়ে বিচ্ছেদ খুব স্বাভাবিক ঘটনা হয়, দাম্পত্য সম্পর্কে অশান্তি চলমান ব্যাপার হয় তাহলে বিয়ের ব্যাপারে মানুষের অনীহা তৈরি হয়, মানুষ বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কে থাকতেই স্বচ্ছন্দ্য বোধ করে এবং পরবর্তী প্রজন্ম বেড়ে ওঠে চরম অস্থিরতার মাঝে।
তাহলে করণীয় কী?
“শয়তানকে জিততে দিবো না”— এই মানসিকতা নিয়ে যতটা সম্ভব এই সম্পর্কের যত্ন নেয়া। আর এ ব্যাপারে কার্যকরী একটা উপায় হচ্ছে কুরআনের প্রাসঙ্গিক আয়াত দিয়ে রুকইয়া করা ও সেইসব আয়াতের রেফারেন্স টেনে দুআ করা।
অবশ্যই এটা কোনো টোটকা পদ্ধতি নয় যে পড়ে ফুঁ দিলাম আর রাতারাতি গল্প সিনেমার মতো সম্পর্ক হয়ে গেলো……এমনটা বাস্তবে কখনোই হয় না। আত্মসমালোচনা করতে হবে এবং দেখতে হবে কোন বিষয়টি সম্পর্কের অবনতির ক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। তারপর সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে, কাউন্সেলরের বা অভিজ্ঞ বা মুরুব্বী কারো পরামর্শ নিতে হবে, সাথে স্পিরিচুয়াল দিক হিসেবে এই রুকইয়া চালিয়ে যেতে হবে ইনশাআল্লাহ।
প্রাসঙ্গিক আয়াতগুলা স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের জীবনে ভূমিকা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রিমাইন্ডার হিসেবেও কাজ করতে পারে।
প্রাসঙ্গিক আয়াতগুলো কী কী?
প্রসংগ ১: নেককার জীবন সংগী ও সুসন্তান চাওয়ার জন্য সরাসরি দুআ
সূরা ফুরক্বান ২৫:৭৪
وَٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَٰجِنَا وَذُرِّيَّٰتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَٱجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
“এবং যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা ! আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান করো এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ করো। ”
ব্যাখ্যাঃ নেককার জীবনসঙ্গী ও সুসন্তান পাওয়ার জন্য একদম সরাসরি যে দুআটা আল্লাহ আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছেন সেটা হচ্ছে এটা। এটা একদম নিয়মিত আমাদের পড়া উচিৎ, সম্ভব হলে মুখস্থ করে ফেলা দরকার। এখানে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়
প্রথমতঃ এই দুআ অবিবাহিত, বিবাহিত, সন্তানসহ, সন্তান ছাড়া সর্বাবস্থায় পড়ার মতো একটা দুআ ।
দ্বিতীয়তঃ আমাদের মনে অনেক সময় একটা কাল্পনিক লিস্ট থাকে যেটা আমরা সঙ্গী অথবা সন্তানের মাঝে চাই। আমরা ভুলে যাই যে সেগুলোর সব কিছু থাকলেও অন্য এমন কোনো স্বভাবের জন্য সম্পর্কটা চরম তিক্ত হয়ে যেতে পারে। তাই আল্লাহ আমাদেরকে একটা দারুণ শর্টকাট শিখাচ্ছেন। ভেঙ্গে ভেঙ্গে অনেক কিছু না বলে এক কথায় দুআ করা যেন চক্ষু শীতলকারী হয়।
তৃতীয়তঃ এখানে সুস্থ দাম্পত্য সম্পর্কের চূড়ান্ত লক্ষ্য বলে দেয়া হয়েছে-মুত্তাকীদের ইমাম বা নেতা হওয়া অর্থ্যাৎ আল্লাহ চান এব্যাপারে যেন আমরা উচু টার্গেট নির্ধারণ করি ।
চতুর্থতঃ এখানে প্যারেন্টিং টিপস দেয়া হয়েছে। যদি আমরা নেক সন্তান চাই তাহলে আমাদেরকে রোল মডেল হতে হবে তাদের জন্য। পরোক্ষভাবে স্বামী- স্ত্রীর সম্পর্কের আরেকটা উদ্দেশ্যও বলা হচ্ছে-আমরা সুসম্পর্ক বজায় রাখবো যেন সন্তানরা আমাদের দেখে ভালো কিছু শিখে।
যেভাবে দুআ করতে পারি (উদাহরণ)
হে আস সামাদ ! হে আর রউফ ! হে আস সালাম ! হে আল ওয়াদুদ ! তুমি আমাদের সঙ্গীদের আমাদের জন্য আর আমাদেরকে আমাদের সঙ্গীদের জন্য সন্তুষ্টি, শান্তি, স্বস্তি, ও করুণার উসিলা বানিয়ে দাও। তুমিতো সব পারো, কোনো কিছুই তোমার এখতিয়ারে বাইরে নয় হে আল কাদির। নিশ্চয়ই সকল সন্তুষ্টি, শান্তি, স্বস্তি, ও করুণার উৎস এক মাত্র তুমিই।আর আমাকেও তুমি চক্ষু শীতলকারী সন্তান ও সঙ্গী উপহার হিসেবে দান করো।
প্রসঙ্গ ২ :স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের যাদুটোনার আশংকা করলে পড়ার আয়াত
তিক্ত সত্য এই যে স্বামী স্ত্রীর মাঝে সুসম্পর্ক বজায় থাকুক এটা অনেক সময় আমাদের সুহৃদরাই চায় না। হিংসার বশবর্তী হয়ে যাদুটোনা করার ঘটনা খুবই প্রচলিত আমাদের সমাজে। এটা থেকে বাঁচতে হলে আমাদের নিচের আয়াত পড়ে রুকইয়া করা উচিৎ। এটা খুবই শক্তিশালী আয়াত
সূরা বাক্বারা ২:১০২
وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُو الشَّيَاطِينُ عَلَىٰ مُلْكِ سُلَيْمَانَ ۖ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَٰكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ وَمَا أُنزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ ۚ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّىٰ يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ ۖ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ ۚ وَمَا هُم بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۚ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنفَعُهُمْ ۚ وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ ۚ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنفُسَهُمْ ۚ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ
“তারা ঐ শাস্ত্রের অনুসরণ করলো, যা সুলায়মানের রাজত্ব কালে শয়তানরা আবৃত্তি করতো। সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিল। তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত। তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য; কাজেই তুমি কাফের হয়ো না। অতঃপর তারা তাদের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত, যদ্দ্বারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। তারা আল্লাহর আদেশ ছাড়া তদ্দ্বারা কারও অনিষ্ট করতে পারত না। যা তাদের ক্ষতি করে এবং উপকার না করে, তারা তাই শিখে। তারা ভালরূপে জানে যে, যে কেউ জাদু অবলম্বন করে, তার জন্য পরকালে কোন অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা আত্নবিক্রয় করেছে, তা খুবই মন্দ যদি তারা জানত। ”
ব্যাখ্যাঃ আমরা যদি স্বামী স্ত্রীর মাঝে যাদুটোনার আশংকা করি তাহলে এই আয়াতটা অন্ধভাবে পড়লে কাজ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। আমাদের এই আয়াত নাযিলের পটভূমি বুঝতে হবে, সেজন্য ‘শিকড়ের সন্ধানে’ বইটার সুলাইমান ও জ্বীন জগত অধ্যায়টা পড়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
যেভাবে দুআ করতে পারি (উদাহরণ)
আল্লাহ এই আয়াতে তুমি উল্লেখ করে দিয়েছো যে তোমার অনুমতি ছাড়া কেউ আমার, আমার সংসারের কোনো অনিষ্ট করতে পারবে না। যারা আমার সংসারে ভাঙ্গন ধরাতে চায় তাদের চক্রান্ত খুবই দুর্বল যদি আমি তোমার কালামকে আঁকড়ে ধরে রাখি। যারা যাদুটোনা করছে তাদেরকে তুমি বুঝ দাও, এই কুফরি কাজ থেকে বিরত রাখো আর আমার সংসারকে রক্ষা করো ইয়া মুহাইমিন ! আল জাব্বার। তুমি আস সালাম !আমার সংসারে শান্তি ফিরিয়ে দাও মালিক!
প্রসঙ্গ ৩ : সাধারণভাবে সংসারে শান্তি ও শৃংখলা ফিরিয়ে আনার জন্য দুআ
বর্তমানে অনেক আর্থ সামাজিক কারণ রয়েছে যার জন্য আমাদের সংসারগুলোতে অশান্তি একটা কমন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেমন- নাটক সিনেমা দেখে বিয়ে পরবর্তী জীবনের ব্যাপারে একটা কাল্পনিক জগতে বাস করা, দেরীতে বিয়ে হওয়া (ফলে ব্যক্তিত্বের সংঘাত), নারী ও পুরুষের রোল নিয়ে কনফিউশন, পর্নোগ্রাফির বহুল প্রসার ইত্যাদি। যদি যাদু টোনা টাইপের চরম মাত্রার সমস্যা হয় তাহলে সেটার জন্য একভাবে চিকিৎসা করতে হবে যেটার একটি মাত্র অংশ উপরে বলা হয়েছে।কিন্তু তাছাড়া উপরে উল্লেখিত আর্থসামাজিক কারণ যেসব অশান্তির উৎস সেগুলোর জন্য সাধারণভাবে নিচের আয়াতগুলো দিয়ে রুকইয়া করা যেতে পারে।
সূরা রুম ৩০:২১
وَمِنْ ءَايَٰتِهِۦٓ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَٰجًا لِّتَسْكُنُوٓا۟ إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةًۚ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
“আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। ”
ব্যাখ্যাঃ কুরআনে বিয়ে সংক্রান্ত যত আয়াত আছে তার মাঝে ব্যক্তিগতভাবে এই আয়াতটা আমার কাছে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়। এখানে বিয়ে নামক পবিত্র বন্ধনকে আল্লাহর একটা নিদর্শন হিসেবে বলা হয়েছে এবং বিয়ের উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়েছে- সাকিনা বা শান্তি পাওয়া।
কিভাবে এটা পাওয়া সম্ভব?
সেটাও এই আয়াতে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে-মাওদ্দাহ ও রাহমা। মাওদ্দাহ অর্থ হল এমন ভালোবাসা যা পরস্পরকে সমৃদ্ধ করে। সাথে বলা হয়েছে রাহমার কথা যেটা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লাগে। বিয়ের পর প্রথম দিকে স্বাভাবিকভাবেই যে তীব্র আবেগ কাজ করে তার অনেকটাই হয় জৈবিক কারণে। তারপর একসময় একসাথে থাকতে থাকতে সঙ্গীর অনেক ভালো কিছুর সাথেই আমরা এমনভাবে অভ্যস্ত হয়ে যাই যে সেগুলো আর বিশেষ কিছু মনে হয় না, শয়তানের কুমন্ত্রণায় খালি চোখে পড়তে থাকে সেইসব বিষয় যা আমাদের ভালো লাগে না। এটা এমন সময় যখন সাধারণত সন্তানরা যোগ হয় পরিবারে, শারিরীক সৌন্দর্য্য ম্লান হয়ে যায়, নানা অসুখ বিসুখের টানাপোড়েনও হয়তো চলতে থাকে। পরিচয় তখন আর স্বামী স্ত্রী না বরং সন্তানের মা বাবা হয়ে যায়। এইসময় সম্পর্কের ভিত টিকিয়ে রাখতে যেটা দরকার সেটা হল রাহমা- দয়া। তাই আমাদের উচিৎ দুআ করার সময় এই দুটো অনুভূতি যেন স্বামী-স্ত্রীর মাঝে আল্লাহ সৃষ্টি করে দেন সেই দুআ করা।
যেভাবে দুআ করতে পারি (উদাহরণ)
হে রব ! তুমি আমাকে যার সঙ্গী বানিয়ে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছো আমরা যেন পরস্পরের শান্তির উৎস হতে পারি। নিশ্চয়ই সকল শান্তির উৎস এক তুমি হে আস সালাম। হে আর রউফ, হে আল ওয়াদুদ তুমি আমাদের মাঝে পারস্পরিক মাওয়াদ্দাহ ও রাহমা দান কর। হে আল ওয়াসী তোমার সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবাসার, ক্ষমা করার, আর দয়া করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দাও।
সূরা নিসা ৪:১
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱتَّقُوا۟ رَبَّكُمُ ٱلَّذِى خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَٰحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَآءًۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ٱلَّذِى تَسَآءَلُونَ بِهِۦ وَٱلْأَرْحَامَۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا
হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক সত্ত্বা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তা থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্ঝা করে থাকো এবং আত্নীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।
সূরা আরাফ ৭:১৮৯
هُوَ ٱلَّذِى خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَٰحِدَةٍ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِيَسْكُنَ إِلَيْهَاۖ فَلَمَّا تَغَشَّىٰهَا حَمَلَتْ حَمْلًا خَفِيفًا فَمَرَّتْ بِهِۦۖ فَلَمَّآ أَثْقَلَت دَّعَوَا ٱللَّهَ رَبَّهُمَا لَئِنْ ءَاتَيْتَنَا صَٰلِحًا لَّنَكُونَنَّ مِنَ ٱلشَّٰكِرِينَ
তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদিগকে সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র সত্তা থেকে; আর তার থেকেই তৈরী করেছেন তার জোড়া, যাতে তার কাছে স্বস্তি পেতে পারে। অতঃপর পুরুষ যখন নারীকে আবৃত করল, তখন, সে গর্ভবতী হলো। অতি হালকা গর্ভ। সে তাই নিয়ে চলাফেরা করতে থাকলো।
আয়াত ৪ঃ সূরা নাহলঃ৭২
وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَجَعَلَ لَكُم مِّنْ أَزْوَاجِكُم بَنِينَ وَحَفَدَةً وَرَزَقَكُم مِّنَ الطَّيِّبَاتِ ۚ أَفَبِالْبَاطِلِ يُؤْمِنُونَ وَبِنِعْمَتِ اللَّهِ هُمْ يَكْفُرُونَ ﴿٧٢﴾
আর আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তোমাদের যুগল থেকে তোমাদের জন্য দিয়েছেন সন্তানসন্ততি ও নাতি-নাতনী, আর তোমাদের রিযেক দান করেছেন উত্তম জিনিস থেকে। তবে কি তারা মিথ্যাতে বিশ্বাস করে এবং আল্লাহ্র অনুগ্রহসামগ্রীতে তারাই অবিশ্বাস করে?
ব্যাখ্যাঃ উপরের তিনটি আয়াতেই স্বামী-স্ত্রী যে একই সত্ত্বা থেকে সৃষ্ট বা মানুষের মধ্যে থেকেই জোড়া সৃষ্টি করা হয়েছে সেটার ব্যাপারে আলোকপাত করা হয়েছে। সেইসাথে ৩ নং আয়াতটিতে স্বামী স্ত্রীর মাঝে একান্ত সম্পর্কের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সঙ্গীর সাথে সুসম্পর্কের মাধ্যমে হালালভাবে যেন জৈবিক চাহিদা মেটে সেই দুআ করা যেতে পারে এই আয়াত পড়ে। সামগ্রিকভাবে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক ও এর মাঝে সন্তান সন্ততি হওয়া যে আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত সেটা আবার মনে করিয়ে দেয়া হচ্ছে। এই নিয়ামতগুলোর শুকরিয়া হিসেবে আমাদের সত্য ও ইসলামের পথে অটল থাকা উচিৎ।
যেভাবে দুআ করতে পারি (উদাহরণ)
হে আমার রব! হে রহমান! হে রহিম! হে খালিক! আমি এবং আমার স্বামী আমরাতো তোমার সৃষ্টি, এক আদমের সন্তান। আমাদের সৃষ্টির এই সূত্র যেন আমারদের সবসময় এক সাথে জুড়ে রাখে। আমাদের মাঝের কোনো বিভেদই যেন ভুলিয়ে না দিতে পারে যে আমরা এক তোমার বান্দা হিসেবে আর তুমিই আমাদের জোড়ায় সৃষ্টি করেছ। এ সম্পর্কের মধ্যে তোমার সৃষ্টি হবার হক রক্ষা করে চলতে পারি আমাদের এমন তাকওয়া দাও হে আল মুমিন। নিজেদের মাঝে সকল মত পার্থক্য আর অভিযোগ কাটিয়ে উঠে এক তোমার সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবাসার তৌফিক দাও হে আল ওয়াদুদ।
আমাদের মাঝে একান্ত ঘনিষ্ঠ শারীরিক সম্পর্ক যেভাবে জায়িজ করেছো সেইভাবে আমাদের মন যেন আজীবন একসাথে জুড়ে থাকে হে আল জাব্বার। হে আস সালাম আমরা যেন একে অপরের জন্য শান্তির সন্ধান হতে পারি আমাদের এমন তৌফিক দাও। হে আল ওয়াহাব তুমি আমাদের একে অপরের মাঝে স্বস্তি খুঁজে পাওয়ার তৌফিক উপহার হিসেবে দান করো।
সূরা নিসা ৪:১৯-২০
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَرِثُوا۟ ٱلنِّسَآءَ كَرْهًاۖ وَلَا تَعْضُلُوهُنَّ لِتَذْهَبُوا۟ بِبَعْضِ مَآ ءَاتَيْتُمُوهُنَّ إِلَّآ أَن يَأْتِينَ بِفَٰحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍۚ وَعَاشِرُوهُنَّ بِٱلْمَعْرُوفِۚ فَإِن كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَىٰٓ أَن تَكْرَهُوا۟ شَيْـًٔا وَيَجْعَلَ ٱللَّهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا (১৯)
وَإِنْ أَرَدتُّمُ ٱسْتِبْدَالَ زَوْجٍ مَّكَانَ زَوْجٍ وَءَاتَيْتُمْ إِحْدَىٰهُنَّ قِنطَارًا فَلَا تَأْخُذُوا۟ مِنْهُ شَيْـًٔاۚ أَتَأْخُذُونَهُۥ بُهْتَٰنًا وَإِثْمًا مُّبِينًا (২০)
নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন কর। অতঃপর যদি তাদেরকে অপছন্দ করো, তবে হয়ত তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ, অনেক কল্যাণ রেখেছেন।
যদি তোমরা এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী পরিবর্তন করতে ইচ্ছা করো এবং তাদের একজনকে প্রচুর ধন-সম্পদ প্রদান করে থাক, তবে তা থেকে কিছুই ফেরত গ্রহণ করো না। তোমরা কি তা অন্যায়ভাবে ও প্রকাশ্য গোনাহর মাধ্যমে গ্রহণ করবে?
ব্যাখ্যাঃ উপরের আয়াতে একটা বৈপ্লবিক চিন্তার খোরাক আছে। আমরা অনেক সময় আমাদের সঙ্গীর এমন কোনো স্বভাব বা দিক অপছন্দ করি যেটা আসলে আমাদের জন্য কল্যাণকর। অবশ্যই এখানে এমন সব স্বভাবের কথা বলা হচ্ছে যেগুলো কোনো অপরাধ বা গুনাহ না। যেমন, কেউ হয়তো কম কথা বলে দেখেই আমাদের ভুলগুলো নিয়েও বেশী কথা বলে না, কারও হিসাব করে চলার অভ্যাস দেখেই হয়তো আমরা ঋণের মাঝে নিমজ্জিত নই। কেউ তার মা-বাবার কথা অনেক বেশী শোনে বলে আল্লাহ সেটার বরকতে আমাদের অনেক বিপদ আপদ থেকে মুক্ত রেখেছেন। দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে এভাবে চিন্তা করতে পারাটা জরুরী। তাহলে আমাদের মাঝে কৃতজ্ঞতা বাড়বে ইনশাআল্লাহ। সাথে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে কোনো মানুষই পারফেক্ট নয়, হওয়া সম্ভব নয়। সঙ্গীর একটি নেতিবাচক স্বভাবের উপর বেশী ফোকাস করে আমরা যদি সম্পর্কচ্ছেদের কথা ভাবি, তাহলে পরবর্তীতে অন্য জীবন সঙ্গীর মাঝে হয়তো ভিন্ন কোনও স্বভাব দিবেন যেটাও আমাদের কাছে খুব বিরক্তিকর। মূল কথা, বাস্তব জীবনটা গল্প সিনেমা নয় এবং জীবন সঙ্গী অর্ডার দিয়ে মনের মতো কম্বিনেশন বানানোর সুযোগ নেই। কথাটা আপাতদৃষ্টিতে হাস্যকর শোনালেও নাটক সিনেমা দেখে দেখে আমাদের অনেক সময়েই এমন অবাস্তব প্রত্যাশা মনের মাঝে ভর করে। তাই সঙ্গীর ইতিবাচক দিকগুলোতে ফোকাস করার মানসিকতা থাকা বাঞ্ছনীয়।
যেভাবে দুআ করতে পারি (উদাহরণ)
হে আর রহমান !হে আর রাহীম ! হে আল গফুর !তুমি আমাদের ক্ষমা করো। আমাদের স্বামী-স্ত্রীদের একে অপরের হক রক্ষা করে চলার তৌফিক দান করো। আমাদের স্বামীরা যেন আমাদের সাথে আচরণের সময় আমাদের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালনে, আমাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতে তোমার তাকওয়া অবলম্বন করে। আর আমরা যেন আমাদের স্বামীদের জন্য কল্যাণের উসিলা হতে পারি আমরা বুঝে না বুঝে যদি একে অপরের হক নষ্ট না করি সে ব্যপারে তুমি দৃষ্টি রেখো হে আর রাকীব। আর যদি কখনও ভুলে একে অপরের হক নষ্ট করি তবে তুমি আমাদের তা বুঝে নিজেদের সংশোধনের সুযোগ করে দিও হে আর রউফ।
ইয়া আল জাব্বার !আমার সঙ্গীর অমুক স্বভাবের মাঝে আমার জন্য কী কল্যাণ আছে সেটা আমাকে বোঝার তৌফিক দান করো, আর না বুঝলেও তার অমুক অমুক ইতিবাচক স্বভাবের দিকে আমার দৃষ্টি সরিয়ে দিয়ে আমাকে হালালের মাঝে সন্তুষ্ট রাখো।
সূরা বাক্বারা ২:১৮৭
هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ
তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ।
ব্যাখ্যাঃ এই আয়াতে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের স্বরূপ বোঝাতে অসাধারণ একটা উপমা ব্যবহার করা হয়েছে। স্কলাররা একে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। কেউ বলেছেন এর মাধ্যমে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বোঝানো হয়েছে, কারো মতে এখানে পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে পোশাক যেমন আমাদের নানা ত্রুটি ঢেকে রাখে, ঠাণ্ডা, গরম এগুলো থেকে রক্ষা করে, আমাদেরও উচিৎ একে অপরের জন্য সেরকম রক্ষাকবচ হয়ে যাওয়া এবং সীমাবদ্ধতাগুলো অন্য মানুষের সামনে গোপন করা।
যেভাবে দুআ করতে পারি (উদাহরণ)
ইয়া রাব! তুমি আমাকে আমার স্বামী/ স্ত্রীর জন্য আরামদায়ক, স্বস্তিকর, খুব প্রিয় পোশাকের মতো হওয়ার তৌফিক দান করো যেটা একদম তার জন্য শতভাগ উপযুক্ত। আমি যেন তার ত্রুটিসমূহ প্রকাশ্যে না বলে তাকে অপমানিত/ ছোট না করি, তার কাছ থেকেও অমুক আচরণ পাই সেই তৌফিক দান করো।
প্রসঙ্গ ৪ :সমস্যা যদি সমাধানের উর্ধ্বে চলে যায়
আমরা অবশ্যই স্বামী -স্ত্রীর সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবো কিন্তু সাথে এটাও মাথায় রাখবো যে ডিভোর্স কোনো হারাম বিষয় নয়, এমনটা হলে কুরআনে এতগুলো আয়াত দিয়ে একদম সুস্পষ্টভাবে এতদংক্রান্ত বিধি বিধান গুলো তুলে ধরা হতো না। অনেক সময় ডিভোর্সের মাধ্যমে আদতে সংসার ভাঙ্গে না বরং সুস্থ সুন্দর সংসার গঠনের পথ প্রশস্ত হয়। এটা সন্তানদের সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্যও উপকারী হতে পারে। সেজন্য আমাদের নিচের আয়াতটার কথাও মাথায় রাখা দরকারঃ
সূরা তাগাবুন ৬৪ঃ ১৫
হে মুমিনগণ, তোমাদের কোনো কোনো স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের দুশমন। অতএব তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকো। যদি মার্জনা করো, উপেক্ষা করো, এবং ক্ষমা করো, তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।
ব্যাখ্যাঃ
এখানে বলা হচ্ছে সেইসময় পরিস্থিতির কথা যেখানে সন্তানসন্ততি বা জীবন সংগী বরং জীবনকে অতিষ্ট করে ফেলতে পারে। কুরআনেই আমরা সূরা তাহরীমে এমন উদাহরণ পাই। নবী পত্নীদের মাঝে এমন ছিলো আবার ফিরাউনের ঘরে ছিলো এক মহীয়সী নারী। দুনিয়ার জীবনের পরীক্ষার অংশ হিসেবে এমনটা হতে পারে।
যেভাবে দুআ করতে পারি (উদাহরণ)
আল্লাহ যদি তুমি আমার তাক্বদীরে এমন সংগী ও সন্তান রাখো যারা আদতে আমার শত্রু, তাহলে আমাকে সেটা চিহ্নিত করার তৌফিক দাও। তাদের প্রতি আমি যেন এত তীব্র ভালোবাসা অনুভব না করি যে সেটা আমার ঈমান ধ্বংসের কারণ হবে। তুমি আমাদেরকে তাদের চক্রান্ত থেকে রক্ষা করো, তাদের ভুল ত্রুটি সমূহ ক্ষমা করার তৌফিক দাও শুধু তোমার কাছ থেকে ক্ষমা পাওয়ার আশায়।
কিভাবে বুঝবো যে এই সম্পর্কগুলোর ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে? এব্যাপারে আমাদের রেফারেন্স পয়েন্ট হতে হবে নিচের আয়াতঃ
সূরা তাওবা ৯:২৪
قُلْ إِن كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
বলো, ”যদি তোমাদের পিতারা ও তোমাদের পুত্রেরা, আর তোমাদের ভাইয়েরা ও তোমাদের পরিবাররা, আর তোমাদের আত্মীয়স্বজন, আর মাল-আসবাব যা তোমরা অর্জন করেছ, আর ব্যবসা-বাণিজ্য যার অচলাবস্থা তোমরা আশঙ্কা করো, আর বাড়িঘর যা তোমরা ভালোবাসো — তোমাদের কাছে আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের ও তাঁর পথে সংগ্রামের চেয়ে অধিকতর প্রিয় হয় তবে অপেক্ষা করো যে পর্যন্ত না আল্লাহ্ নিয়ে আসেন তাঁর আদেশ।’’ আর আল্লাহ্ দুষ্কৃতিকারী সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না।
ব্যাখ্যাঃ
আল্লাহর পথে সংগ্রাম করার নানা রূপ থাকতে পারে। আমাদেরকে দেখতে হবে যে এই সম্পর্কগুলোকে আমরা নিজের অজান্তে ইলাহ বানিয়ে ফেলেছি নাকি, তাদের সন্তুষ্ট করার জন্য আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করছি কী না। যেমনঃ স্বামী পছন্দ করে না বলে পর্দা না করা, স্ত্রী বিলাস বহুল জীবন চায় বলে হারাম উপার্জনে লিপ্ত থাকা ইত্যাদি
যেভাবে দুআ করতে পারি (উদাহরণ)
আল্লাহ আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় আমি তোমার বান্দা। এই দুনিয়ার কোনো সম্পদ, সম্পর্ক বা টান যেন এত বেশী না হয় যে আমি তোমার থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। তুমি আমাকে তৌফিক দাও সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার, এবং সেটাতে দৃঢ়পদ থাকার।
পর্ব ৪: হালাল রিযিকের সন্ধানে
কেস স্টাডি ১
মাস্টার্স পাশ করার ২ বছর হতে চলল। এখনো পাভেল কোনো জব পাচ্ছেনা। তার বেশিরভাগ বন্ধু-বান্ধব বিভিন্ন ব্যাংকে জয়েন করেছে। কিন্তু সে সুদী ব্যাংকে জয়েন করবেনা বিধায় সেই দিকে চাকরির চেষ্টাও করেনি। কিন্তু দিন দিন সে তার চাকরি পাওয়া নিয়ে হতাশ হয়ে পড়ছে। বাসায় সবাই হুজুর বলে কথা শুনাচ্ছে, বেকার বলে বিয়ের কথা চিন্তাও করা যাচ্ছে না অথচ ওর সমবয়সী সবাই সেটেল করে ফেলেছে জীবনে। পাভেল ভেবে পাচ্ছে না তার কী করা উচিৎ।
কেস স্টাডি ২
রাহাত সুদী ব্যাংকে ভালো বেতনে চাকরি করে। সুদ হারাম এবং এ বিষয়ে কুরআনের নির্দেশনা জানার পর থেকেই সে তার চাকরি ছেড়ে দিবে ভাবছে। কিন্তু ভালো কোনো সুযোগ পাচ্ছেনা, আর চাকরিও ছাড়া হচ্ছেনা। দুই বছর ধরে সে হালাল রিজিকের জন্য চেষ্টা করছে কিন্তু কিছু হচ্ছেনা, আল্লাহর উপর ভরসা করে চাকরি ছেড়ে দিবে এই ব্যাপারটাতে আশে পাশের কেউ সমর্থন যোগাচ্ছে না। রাহাত বুঝতে পারছে না ওর কী করা উচিৎ।
কেস স্টাডি ৩
সুমনা একজন অনলাইন ব্যবসায়ী। দেশী থ্রী-পিসগুলোকে কাস্টামারদের কাছে পাকিস্তানি বলে চওড়া দামে বিক্রি করে। ব্যবসা থেকে খুব ভালো টাকা আয় করলেও তার কোনো সঞ্চয় নেই। প্রায় প্রতি মাসেই এমন কিছু হিসাবের বাইরে খরচ হয়ে যায়। যার কারনে মাস শেষে তাকে হিমশিম খেতে হয় সংসার চালাতে। সে তার রিজিকে কোনো বারাকাহ খুঁজে পায়না।
কেস স্টাডি ৪
রফিক সাহেব একটি সরকারী অফিসে পিয়নের চাকরি করেন। বেতন খুব বেশি নয় তবে বেতনের উপরে যা পান তা দিয়ে উনি ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট আর সাভারে ৩ বিঘা জমি কিনেছেন। তার এই ঘুষ খাওয়ার স্বভাবের জন্য স্ত্রী রহিমা বানুর সাথে উনার প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকে। তবে রফিক সাহেব এটাকে ঘুষ মনে করেন না। তিনি মনে করেন এটা বকশিশ। হজ্জ করে আসার পর তিনি এখন এটাকে বকশিশও বলেননা, বলেন হাদিয়া।রহিমা বানু খুব ভয় পান তার স্বামীর এই ঘুষপ্রীতি। সংসারে অর্থের অভাব না থাকলেও মনের শান্তির অভাব তিনি খুব টের পান।
কেস স্টাডি ৫
তানিয়া সদ্য দ্বীনে ফিরেছে। চেষ্টা করছে কুরআন আর সুন্নাহের আলোকে জীবন-যাপন করতে। কিন্তু তার নিজে পরিবারে আপন ভাই মিডিয়ার নাটক-সিনেমা বানায়। এই কাজে অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ভাইকে বহুভাবে বুঝিয়েও কোনো ফল হচ্ছেনা।নিজের ভাইয়ের এই হারাম আয় থেকে মুক্ত করার কোনো পথ সে খুঁজে পাছেনা।
উপরের ঘটনাগুলো কিন্তু কোনো গল্প বা ক্লপ কাহিনী নয়। এই গল্প আর চরিত্র সবগুলোই বাস্তব। আমাদের আশে-পাশেই বিচরণ করে। যদিও এখানে বিভিন্ন ধরনের ঘটনায় বিভিন্ন সমস্যার কথা উঠে এসেছে। কিন্তু একদিক দিক দিয়ে এই সমস্যাগুলোর মূল এক।কী সেটা?
এই সব সমস্যাই রিজিকের সাথে সম্পর্কিত।
কিন্তু রিযিক কী এটা কি আমরা সবাই বুঝি?
রিযিকের কন্সেপ্টঃ রিযিক কি শুধুই টাকা পয়সা?
কুরআনে “রিজিক” বলতে আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে প্রদান করেন এমন সব কল্যাণকর বস্তুকে বোঝায়। আমাদের বস্তুগত চাহিদা মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় (যেমন- খাদ্য, অর্থ, বাসস্থান, চাকরি)সকল কিছুই রিজিক হতে পারে। তবে রিজিক শুধু বস্তুগত নয়, অবস্তুগতও হয়ে থাকে। যেমন- নেক আমলের ইচ্ছা, স্বাস্থ্য, জ্ঞান, সম্পর্ক, সন্তুষ্টি,শান্তি আল্লাহ প্রদত্ত এ সকল অবস্তগত নিয়ামতও রিজিক। আমরা প্রায় সময় রিজিকের সমস্যায় ভুগি। কখনো বস্তগত। কখনো আবার অবস্তগত। কারো জীবনের রিজিকের ঘাটতি, কারো আবার রিজিক আছে কিন্তু বরকত নাই। কুরআনে আল্লাহ স্পষ্ট করে বলেছেন যে রিজিক পূর্বনির্ধারিত তবে তা অনুসন্ধানের জন্য বান্দাকে চেষ্টা করতে হবে। রিজিকের ব্যাপারে আল্লাহর উপর ভরসা রাখা এবং নিজেদের চেষ্টার মাঝে সমন্বয় রাখতে বারবার কুরআনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিজিকের মালিক যেমন আল্লাহ। ঠিক একইভাবে রিজিকের সমস্যা সমাধানের মালিকও আল্লাহ। আমরা কুরআনের প্রাসঙ্গিক আয়াতের রেফারেন্স টেনে আল্লাহর কাছে আমাদের রিজিক বিষয়ক সমস্যার সমাধানের দুআ করতে পারি।
নিম্নে কুরআনে উল্লিখিত রিজিক সম্পর্কিত বেশ কিছু আয়াতকে বিষয়বস্তুর সাদৃশ্যর ভিত্তিতে কতগুলো থীমে ভাগ করা হয়েছে। এই থীমগুলো রিজিক সম্পর্কে আল্লাহর বিধান ও নির্দেশ বুঝতে আমাদের সাহায্য করবে। সর্বোপরি, এই আয়াতগুলোকে আমরা আমাদের রিজিকের সমস্যার রুকইয়ার জন্য গাইডলাইন হিসেবে ব্যবহার করতে পারি।
থীম-১ রিজিকের জন্য একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা এবং রিজিক বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর তাকওয়া, জিকির, শোকর, এবং ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ
আয়াত ১:
কেউ যদি উপার্জনের উৎস হালালের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখতে চান বলে দুনিয়ার জীবনে অবাধে ভোগ বিলাস না করতে পারেন কিংবা অবৈধ পথে উপার্জিত টাকা দিয়ে অন্য মানুষকে বিলাসী জীবন যাপন করতে দেখে মন খারাপ লাগে তাহলে এই আয়াতের রেফারেন্স টেনে দুআ করতে পারেন যে এই দুনিয়ার জীবন কাফিরদের জন্য সৌন্দর্য্য, আমাদের টার্গেট পরকালে ভালো থাকা
সুরা বাকারা আয়াতঃ ২:২১২
زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُواْ ٱلۡحَيَوٰةُ ٱلدُّنۡيَا وَيَسۡخَرُونَ مِنَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْۘ وَٱلَّذِينَ ٱتَّقَوۡاْ فَوۡقَهُمۡ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۗ وَٱللَّهُ يَرۡزُقُ مَن يَشَآءُ بِغَيۡرِ حِسَابࣲ
কাফেরদের জন্য এই দুনিয়ার জীবন সজ্জিত (আকর্ষণীয়) করে রাখা হয়েছে। তারা মুমিনদেরকে উপহাস করে। তবে যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে কেয়ামতের দিন তারা তাদের (কাফেরদের) চেয়ে ওপরে থাকবে। আর আল্লাহ যাকে চান বিনা হিসাবে দান করেন।
আয়াত ২:
কেউ যদি হালাল রিযিক কোথা থেকে আসবে এটা নিয়ে সন্দিহান থাকেন কিংবা দেরী হচ্ছে দেখে অস্থির হয়ে যান, তারা শান্ত থাকার জন্য এই আয়াতের রেফারেন্স টেনে দুআ করতে পারেন, তাওয়াক্কুল করার ব্যাপারে মনে করিয়ে দেয় এই আয়াত
আত-তালাকঃ ৬৫:৩
وَيَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَيۡثُ لَا يَحۡتَسِبُۚ وَمَن يَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِ فَهُوَ حَسۡبُهُۥٓۚ إِنَّ ٱللَّهَ بَٰلِغُ أَمۡرِهِۦۚ قَدۡ جَعَلَ ٱللَّهُ لِكُلِّ شَيۡءࣲ قَدۡرࣰا
এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
আয়াত ৩:
জীবিকা অর্জনের চেষ্টা যেন আমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে ভুলিয়ে না দেয় এই আয়াতটা সেটার রিমাইণ্ডার, বরং বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করা দরকার এই কাজে সফল হওয়ার জন্য
সূরা আল-জুমুআ ৬২:১০
فَإِذَا قُضِيَتِ ٱلصَّلَوٰةُ فَٱنتَشِرُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَٱبۡتَغُواْ مِن فَضۡلِ ٱللَّهِ وَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ كَثِيرࣰا لَّعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ
অতঃপর যখন নামায সমাপ্ত হবে, তখন জমিনে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) সন্ধান করবে ও বেশি করে আল্লাহকে স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হও।
আয়াত ৪:
রিযিকে বরকত চাইলে চোখ বন্ধ করে ইস্তেগফার করতে হবে, এটা এই আয়াত থেকে বোঝা যায়। প্রকাশ্য, অপ্রকাশ্য, জানা, অজানা সব ধরণের গুনাহ থেকে ক্ষমা চাইতে হবে এই আয়াতের রেফারেন্স টেনে
সূরা নূহঃ ৭১:১০-১২
(10) فَقُلۡتُ ٱسۡتَغۡفِرُواْ رَبَّكُمۡ إِنَّهُۥ كَانَ غَفَّارࣰا
(11) يُرۡسِلِ ٱلسَّمَآءَ عَلَيۡكُم مِّدۡرَارࣰا
(12) وَيُمۡدِدۡكُم بِأَمۡوَٰلࣲ وَبَنِينَ وَيَجۡعَل لَّكُمۡ جَنَّٰتࣲ وَيَجۡعَل لَّكُمۡ أَنۡهَٰرࣰا
বলেছিঃ তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, তিনিতো মহা ক্ষমাশীল (১০)। তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটাবেন (১১)। তিনি তোমাদের সমৃদ্ধ করবেন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে এবং তোমাদের জন্য স্থাপন করবেন উদ্যান ও প্রবাহিত করবেন নদী-নালা (১২)।
আয়াত ৫:
আমাদের সবার রিযিক অলরেডি নির্ধারিত হয়ে আছে, তাই এটা নিয়ে এত পেরেশানীর কিছু নেই, নিচের আয়াত সেটার রিমাইন্ডার
সূরা হূদঃ ১১:০৬
وَمَا مِن دَآبَّةٍ فِى ٱلْأَرْضِ إِلَّا عَلَى ٱللَّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَاۚ كُلٌّ فِى كِتَٰبٍ مُّبِينٍ
আর ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নেই যাদের রিয্ক আল্লাহর যিম্মায় না রয়েছে, আর তিনি প্রত্যেকের দীর্ঘ অবস্থানের স্থান এবং অল্প অবস্থানের স্থানকে জানেন, সবই কিতাবে মুবীনে (লাউহে মাহফুযে) রয়েছে।
দুআ যেভাবে করতে পারি (উদাহরণ)
হে আমার রব, হে আল গাফুর তুমি নিজ গুনে তোমার এই বন্দাকে ক্ষমা করো। হে আল জব্বার, হে আল আজীজ, হে আল কাদীর এমন কিছুই নাই যা তুমি পারোনা। এমন কিছুই নাই যা তোমার ক্ষমতার বাইরে। তুমি “হও” বললেই তা হয়ে যায়। বন্ধ্যা নারীর সন্তান ধারণ, মৃতকে জীবনদান, বিনা মৌসূমে মৌসূমী ফলের যোগান কোনো কিছুইতো তোমার আয়ত্তের বাইরে নয়। তোমার অসীম রহমত আর ক্ষমতার কল্যাণে আল্লাহ তুমি আমার হালাল রিজিকের ব্যাবস্থা করে দাও হে আর রাজ্জাক। আমার জন্য হালাল রিজিকের নিত্য নতুন রাস্তা খুলে দাও হে আল ফাত্তাহ। কুরআনে বার বার তুমি বার বার তোমার সকল সৃষ্টির রিজিকের দায়িত্ব নিয়েছ। হে রব আমিও তোমারি সৃষ্টি, তুমি আমারো রিজিকের বন্দোবস্ত করে দাও হে আল মুকিত।হে আল বাসিত, হে আল ওয়াসি আমার হালাল রিজিকে তুমি বারাকাহ দাও। তুমিতো যাকে ইচ্ছা তাকে বিনা হিসাবে দান করো, তুমিতো গনি, দিতে পচ্ছন্দ করো। আমাকেও বিনা হিসাবে রিজিক দাও হে আল ওয়াহাব। হে আমার রব রিজিকের সন্ধান যেন কখনো আমার অন্তর থেকে তোমার তাকওয়া ও তাওয়াক্কুল এবং জিহবা থেকে তোমার জিকির ও শোকর না কেড়ে নেয়।আমার রিজিকের জন্য শুধু তুমিই যথেষ্ট হয়ে যাও হে আস সামাদ, হে আল আহাদ, হে আল ওয়াহীদ, হে ওয়াকীল, হে আল মুক্তাদীর। হে আল মুজীব নিজের নামের উসিলায় এই দুয়া তুমি কবুল কর।
থীম-২ আল্লাহর পথে ব্যয় করার নির্দেশ
আয়াত ৬ ও ৭:
কারো যদি মনে হয় যথেষ্ট পরিমাণ সম্পদ অর্জনের পর দান খয়রাত করবো, তাদের জন্য রিমাইণ্ডার নিচের আয়াতগুলো- সেই সঠিক সময় আসার আগেই মমৃত্যুর ফেরেশতা চলে আসতে পারে, তখন আফসোস করে কাজ হবে না
সূরা জুমুআ আয়াতঃ ৬৩:১০
وَأَنفِقُوا مِن مَّا رَزَقْنَاكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِيَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ فَيَقُولَ رَبِّ لَوْلَا أَخَّرْتَنِي إِلَىٰ أَجَلٍ قَرِيبٍ فَأَصَّدَّقَ وَأَكُن مِّنَ الصَّالِحِينَ
আর আমরা তোমাদের যা জীবনোপকরণ দিয়েছি তা থেকে তোমরা খরচ করো তোমাদের কোনো একজনের কাছে মৃত্যু এসে পড়ার আগেই, পাছে তাকে বলতে হয় — ”আমার প্রভু! কেন তুমি আমাকে এক আসন্নকাল পর্যন্ত অবকাশ দাও নি, তাহলে তো আমি দান-খয়রাত করতাম এবং আমি সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারতাম।’’
সুরা বাকারা আয়াতঃ ২:২৫৪
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَنفِقُوا۟ مِمَّا رَزَقْنَٰكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِىَ يَوْمٌ لَّا بَيْعٌ فِيهِ وَلَا خُلَّةٌ وَلَا شَفَٰعَةٌۗ وَٱلْكَٰفِرُونَ هُمُ ٱلظَّٰلِمُونَ
হে ঈমানদারগণ! এমন দিন আসার পূর্বে আমার দেওয়া জীবিকা থেকে ব্যয় করো যখন কোন ক্রয়-বিক্রয়, বন্ধুত্ব কিংবা সুপারিশ (করার সুযোগ) থাকবে না । আর অবিশ্বাসীরাই অন্যায়কারী।
আয়াত ৭ ও ৮:
কারো যদি মনে হয় যে আমার নিজেরই তো নাই, অন্যকে কী দিবো, তাদের জন্য রিমাইন্ডার যে দান সাদাকা করা আসলে সম্পদ বৃদ্ধির একটা উসীলা। দান করলে সম্পদ কখনো কমে না, বরং বাড়ে। তাই পরিমাণ যত অল্পই হোক সম্পদে বরকতের জন্য আমাদের নিয়মিত সাদাকা করা উচিৎ, আল্লাহ আমাদের অন্তরের অবস্থাটা দেখেন, অর্থের পরিমাণ না।
সুরা বাকারা আয়াতঃ ২:২৬১
مَّثَلُ ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمۡوَٰلَهُمۡ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنۢبَتَتۡ سَبۡعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنۢبُلَةࣲ مِّاْئَةُ حَبَّةࣲۗ وَٱللَّهُ يُضَٰعِفُ لِمَن يَشَآءُۚ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌ
যারা তাদের সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাদের অবস্থা একটি শস্যদানার মত যা সাতটি শিষ উৎপন্ন করে, প্রতিটি শিষে থাকে একশটি করে দানা। আল্লাহ যাকে চান তার সম্পদ বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ বড় দানশীল, মহাজ্ঞানী।
সুরা বাকারা আয়াতঃ ২:২৭৪
ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمۡوَٰلَهُم بِٱلَّيۡلِ وَٱلنَّهَارِ سِرࣰّا وَعَلَانِيَةࣰ فَلَهُمۡ أَجۡرُهُمۡ عِندَ رَبِّهِمۡ وَلَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُونَ
যারা রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে তারা তাদের প্রভুর কাছে (এর) পুরস্কার পাবে। তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।
দুআ যেভাবে করতে পারি (উদাহরণ)
হে আল বাসিত, হে আল ওয়াসি তুমি আমার রিজিকের হাতকে প্রশস্ত করে দাও।হে আল মুঘনি, আল কাইয়্যুম তুমি আমাকে বিনা হিসাবে দান করো যেন আমিও বিনা হিসাবে তোমার সন্তুষ্টির পথে ব্যয় করতে পারি। হে রব তুমি আল আফু আমাকে ক্ষমা করো। যেদিন আমার সম্পদ আমার কোনো কাজেই আসবেনা সেদিনে পৌছানোর আগে তুমি আমার সম্পদকে তোমার পথে ব্যয় করার তৌফিক দাও হে আল কাদির, হে আল কারিম। শেষ বিচারের দিন আমার সাদাকাহ যেন আমার জন্য সুপারিশ করতে পারে। বিনা হিসাবে দানের জন্য তুমি আমাকে বিনা হিসাবে জান্নাতে পৌঁছে দিও হে আল আফু, আল গাফুর। দারিদ্র্যের ভয়ে যে হৃদয় আল্লাহর পথে ব্যয় করতে ভয় পায় তুমি আমার হৃদয়কে এমন হৃদয়ে পরিণত হওয়া থেকে বিরত রাখো হে আল মানি। তোমার বান্দাদের মাঝে নিজের সম্পদ থেকে তোমার পথে ব্যয় করতে যারা অগ্রগামী তুমি আমাকে তাদের একজন হিসেবে কবুল করে নাও হে আল আওয়াল, হে আল মুকাদ্দিম।
থীম-৩ হালাল ও পবিত্র (হালালুন তাইয়্যিব) রিযিকের নির্দেশ
যারা মনে করেন যে হারাম কাজ না করে জীবন যাত্রার ব্যয় মিটানো সম্ভব না, তাদের জন্য রিমাইণ্ডার যে আল্লাহ আসলে পবিত্র বস্তু থেকে আমাদের রিযিকের ব্যবস্থা করেছেন। তাই হারাম উপায়ে যে অর্থ সাময়িকভাবে আসে, সেগুলো দিনের শেষে আমরা ভোগ করতে পারবো না, ব্যয় হয়ে যাবে কোনো না কোনো ভাবে অথবা বিলাসী জীবন যাপন করেও মনে শান্তি পাওয়া যাবে না
আল-ইসরাঃ ১৭:৭০
۞وَلَقَدۡ كَرَّمۡنَا بَنِيٓ ءَادَمَ وَحَمَلۡنَٰهُمۡ فِي ٱلۡبَرِّ وَٱلۡبَحۡرِ وَرَزَقۡنَٰهُم مِّنَ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَفَضَّلۡنَٰهُمۡ عَلَىٰ كَثِيرࣲ مِّمَّنۡ خَلَقۡنَا تَفۡضِيلࣰا
অবশ্যই আমি আদম-সন্তানদেরকে (মানবজাতিকে) সম্মানিত করেছি, তাদেরকে স্থলে ও সাগরে চলাচলের বাহন দিয়েছি, উৎকৃষ্ট দ্রব্যাদি থেকে তাদের জীবিকার ব্যবস্থা করেছি এবং আমি যাদেরকে সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের চেয়ে তাদেরকে অধিক মর্যাদা দিয়েছি।
সুরা বাকারা আয়াতঃ ২:১৬৮
يَآأَيُّهَا ٱلنَّاسُ كُلُواْ مِمَّا فِي ٱلۡأَرۡضِ حَلَٰلࣰا طَيِّبࣰا وَلَا تَتَّبِعُواْ خُطُوَٰتِ ٱلشَّيۡطَٰنِۚ إِنَّهُۥ لَكُمۡ عَدُوࣱّ مُّبِينٌ
হে মানুষ, যমীনে যা রয়েছে, তা থেকে হালাল পবিত্র বস্তু আহার কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট শত্রু।
আল গাফিরঃ ৪০:৬৪
ٱللَّهُ ٱلَّذِي جَعَلَ لَكُمُ ٱلۡأَرۡضَ قَرَارࣰا وَٱلسَّمَآءَ بِنَآءࣰ وَصَوَّرَكُمۡ فَأَحۡسَنَ صُوَرَكُمۡ وَرَزَقَكُم مِّنَ ٱلطَّيِّبَٰتِۚ ذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبُّكُمۡۖ فَتَبَارَكَ ٱللَّهُ رَبُّ ٱلۡعَٰلَمِينَ
আল্লাহ তো সেই মহান সত্তা, যিনি পৃথিবীকে তোমাদের বাসস্থান করেছেন, আকাশকে ছাদ বানিয়েছেন, তোমাদের আকার গড়েছেন, তোমাদের আকারকে সুন্দর করেছেন এবং তোমাদেরকে উৎকৃষ্ট জীবিকা দান করেছেন। ইনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রভু। বিশ্বজগতের প্রভু এই আল্লাহ কত মহান!
সুরা মাইদা আয়াতঃ ৫:৮৮
وَكُلُوا۟ مِمَّا رَزَقَكُمُ ٱللَّهُ حَلَٰلًا طَيِّبًاۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ٱلَّذِىٓ أَنتُم بِهِۦ مُؤْمِنُونَ
তোমরা আল্লাহর দেওয়া হালাল ও পবিত্র জিনিস খাও এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাকে তোমরা বিশ্বাস কর।
সুরা ত্বাহা ২০:৮১
كُلُواْ مِن طَيِّبَٰتِ مَا رَزَقۡنَٰكُمۡ وَلَا تَطۡغَوۡاْ فِيهِ فَيَحِلَّ عَلَيۡكُمۡ غَضَبِيۖ وَمَن يَحۡلِلۡ عَلَيۡهِ غَضَبِي فَقَدۡ هَوَ
তোমরা আমার দেওয়া পবিত্র খাদ্যসামগ্রী খাও এবং এ ব্যাপারে সীমালংঘন করো না। তাহলে তোমাদের ওপর আমার গযব (ক্রোধ) নেমে আসবে। আর যার ওপর আমার গযব নেমে আসে, সে অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যায়।
সুরা আল-মুমিনুনঃ ২৩:৫১
يَآأَيُّهَا ٱلرُّسُلُ كُلُواْ مِنَ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَٱعۡمَلُواْ صَٰلِحًاۖ إِنِّي بِمَا تَعۡمَلُونَ عَلِيمࣱ
হে রসূলগণ! তোমরা হালাল খাদ্যসামগ্রী থেকে আহার করো এবং সৎকাজ কর। তোমরা যা করো অবশ্যই আমি তা ভালভাবে অবগত আছি।
দুআ যেভাবে করতে পারি (উদাহরণ)
হে আল কুদ্দুস আপনি আমি যেন সবসময় পবিত্র ও হালাল বস্তু আহার করি। আমার অন্তর যেন শয়তানের মোহে পরে অপবিত্র ও হারামের প্রতি কোনোদিন যেন আকৃষ্ট না হয়। তুমি আমার নফসকে দ্রিড়তা দাও হে আল কাওয়ী যেন আমি কখনোই তোমার সীমালঙ্ঘন না করি। আমার হৃদয় হালালের প্রতি এবং সৎ কাজের প্রতি অবিচল রেখো হে আল মাতিন। হে আল আফু, আল গাফুর আমাকে ক্ষমা করো তোমার, তোমার আজাব থেকে নিরাপদ রেখো হে আক ওয়াকীল, হে আল হাফিয।
থীম-৪ অনৈতিক উপার্জন ও অবৈধভাবে সম্পদ গ্রাসের নিষেধ
কারো যদি মনে হয় যে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন এমন বড় কোনো ব্যাপার না, সেখান থেকে দান করে দিলে যে সাওয়াব হবে তার সাথে গুনাহ কাটাকাটি করে ফেলবো, তাহলে তাদের জন্য নিচের আয়াত সতর্কবার্তা যে পবিত্রভাবে অর্জিত সম্পদ থেকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করতে বলা হয়েছে। আর অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের ব্যাপারে কড়া নিষেধাজ্ঞা আছে।
সুরা বাকারা আয়াতঃ ২:২৬৭
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنفِقُوا مِن طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُم مِّنَ الْأَرْضِ ۖ وَلَا تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنفِقُونَ وَلَسْتُم بِآخِذِيهِ إِلَّا أَن تُغْمِضُوا فِيهِ ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ حَمِيدٌ
ওহে যারা ঈমান এনেছ! খরচ করো ভালো বিষয়বস্তু যা তোমরা উপার্জন কর, আর যা আমরা তোমাদের জন্য মাটি থেকে উৎপাদন করে থাকি তা থেকে, আর যা নিকৃষ্ট তা থেকে খরচ করতে সংকল্প করো না যখন তোমরা নিজেরা তার গ্রহণকারী হও না, এর প্রতি উপেক্ষা করা ছাড়া। আর জেনে রেখো, নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ স্বয়ংসমৃদ্ধ, পরম প্রশংসিত।
সুরা বাকারা আয়াতঃ ২:১৮৮
وَلَا تَأۡكُلُوٓاْ أَمۡوَٰلَكُم بَيۡنَكُم بِٱلۡبَٰطِلِ وَتُدۡلُواْ بِهَآ إِلَى ٱلۡحُكَّامِ لِتَأۡكُلُواْ فَرِيقࣰا مِّنۡ أَمۡوَٰلِ ٱلنَّاسِ بِٱلۡإِثۡمِ وَأَنتُمۡ تَعۡلَمُونَ
তোমরা অন্যায়ভাবে একে অন্যের সম্পদ খেয়ো না কিংবা জ্ঞাতসারে অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদের একটা অংশ খাওয়ার উদ্দেশ্যে তা শাসকদের নিকট পেশ করো না।
সূরা আন-নিসা ৪:২
وَءَاتُواْ ٱلۡيَتَٰمَىٰٓ أَمۡوَٰلَهُمۡۖ وَلَا تَتَبَدَّلُواْ ٱلۡخَبِيثَ بِٱلطَّيِّبِۖ وَلَا تَأۡكُلُوٓاْ أَمۡوَٰلَهُمۡ إِلَىٰٓ أَمۡوَٰلِكُمۡۚ إِنَّهُۥ كَانَ حُوبࣰا كَبِيرࣰا
এতিমদেরকে তাদের সম্পদ দিয়ে দাও; (তোমাদের) খারাপ জিনিসকে (তাদের) ভাল জিনিস দ্বারা বদল করো না এবং তোমাদের সম্পদের সাথে মিশিয়ে তাদের সম্পদ ভক্ষণ করো না; এটা অবশ্যই একটা বড় পাপ।
সূরা আন-নিসা ৪:১০
إِنَّ ٱلَّذِينَ يَأۡكُلُونَ أَمۡوَٰلَ ٱلۡيَتَٰمَىٰ ظُلۡمًا إِنَّمَا يَأۡكُلُونَ فِي بُطُونِهِمۡ نَارࣰاۖ وَسَيَصۡلَوۡنَ سَعِيرࣰا
যারা অন্যায়ভাবে এতিমদের সম্পদ খায় তারা নিজেদের পেটে বস্তুত আগুন খায়। তারা শিগগিরই জ্বলন্ত আগুনে (দোযখে) প্রবেশ করবে।
সূরা আন-নিসা ৪:২৯
يَآأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَأۡكُلُوٓاْ أَمۡوَٰلَكُم بَيۡنَكُم بِٱلۡبَٰطِلِ إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً عَن تَرَاضࣲ مِّنكُمۡۚ وَلَا تَقۡتُلُوٓاْ أَنفُسَكُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِكُمۡ رَحِيمࣰا
হে ঈমানদারগণ! তোমরা পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসা ছাড়া একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। আর নিজেরা খুনোখুনি করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়াবান রয়েছেন।
দুআ যেভাবে করতে পারি (উদাহরণ)
হে আল ওয়ালী আপনি আমার অন্তরকে অনৈতিক উপায়ে ব্যাবসা এবং অর্থ উপার্জনের তাড়না থেকে নিরাপদ রাখুন। হে আর রাশিদ, আল হাদি আমারকে সঠিক পথে, নৈতিকভাবে অর্থ উপার্জনের পথে চালিত করুন। আমি জ্ঞাত কিংবা অজ্ঞাতসারে কখনোই যেন কোন মানুষ অথবা কোনো ইয়াতীমের হক নষ্ট না করি। ইয়াতীমের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার আজাব থেকে আমি তোমার কাছে পানাহ চাই হে আল হাফীজ। আমার অন্তরকে ইনসাফের পথে, তোমার পথে দৃঢ় অবিচল রেখো হে আল মাতিন।
থীম-৫ সুদ (রিবা) এর কঠোর নিষেধাজ্ঞা
বর্তমান সময়ে হালাল উপার্জনের পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সম্ভবত সুদ ভিত্তিক সিস্টেম। এটা সমাজের চোখে যতই স্বাভাবিক হোক না কেন আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে আল্লাহর চোখে এটা কত ভয়াবহ সেটার আলোকে। সুদের সাথে জড়িত থাকলে সেই জীবনে কোনো বরকত নাই, আমরা টের পাই বা না পাই। নিচের আয়াতগুলো রিমাইন্ডার।
সুরা বাকারা আয়াতঃ ২:২৭৫
ٱلَّذِينَ يَأۡكُلُونَ ٱلرِّبَوٰاْ لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ ٱلَّذِي يَتَخَبَّطُهُ ٱلشَّيۡطَٰنُ مِنَ ٱلۡمَسِّۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ قَالُوٓاْ إِنَّمَا ٱلۡبَيۡعُ مِثۡلُ ٱلرِّبَوٰاْۗ وَأَحَلَّ ٱللَّهُ ٱلۡبَيۡعَ وَحَرَّمَ ٱلرِّبَوٰاْۚ فَمَن جَآءَهُۥ مَوۡعِظَةٞ مِّن رَّبِّهِۦ فَٱنتَهَىٰ فَلَهُۥ مَا سَلَفَ وَأَمۡرُهُۥٓ إِلَى ٱللَّهِۖ وَمَنۡ عَادَ فَأُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ
যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে দন্ডায়মান হবে, যেভাবে দন্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছেঃ ক্রয়-বিক্রয় ও তো সুদ নেয়ারই মত! অথচ আল্লা’হ তা’আলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অতঃপর যার কাছে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, পূর্বে যা হয়ে গেছে, তা তার। তার ব্যাপার আল্লাহর উপর নির্ভরশীল। আর যারা পুনরায় সুদ নেয়, তারাই দোযখে যাবে। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে।
সুরা বাকারা আয়াতঃ ২:২৭৬
يَمۡحَقُ ٱللَّهُ ٱلرِّبَوٰاْ وَيُرۡبِي ٱلصَّدَقَٰتِۗ وَٱللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ
আল্লাহ সূদকে বিলুপ্ত করেন এবং খয়রাতকে বৃদ্ধি করেন, আল্লাহ অকৃতজ্ঞ পাপীদেরকে ভালবাসেন না।
দুআ যেভাবে করতে পারি (উদাহরণ)
হে আমার হাকীম, হে আল হাক্ক তুমি আমাকে সুদ সম্পর্কে তোমার বিধান বুঝে তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার হিকমাহ দাও।সুদ নিয়ে জেন কখনই আমি দ্বিধাগ্রস্ত না হই। সুদের লেন-দেনের সাথে ব্যবসায়িক লেন-দেনের মাঝে পার্থক্য বোঝার জ্ঞান দাও হে আল আলিম।আমি যেন সুদকে সুদ হিসেবে চিনতে পারি এবং সেটা থেকে নিজেকে এবং নিজের সম্পদকে নিরাপদ রাখতে পারি হে আল হাফিজ। আমি যেন সবসময় তোমার কৃতজ্ঞ থাকতে পারি হে আশ শাকুর।
থীম-৬ দুনিয়াবী রিজিক যখন পরীক্ষা
কেউ যদি হালাল উপায়েও অগাধ সম্পদ অর্জন করেন তাহলে সেটা আল্লাহর সন্তুষ্টির কোনো নিদর্শন না, হতে পারে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। তাই সেই সম্পদের প্রতি আমাদের হৃদয় যেন আসক্ত না হয়ে যায় সেজন্য নিজের আয়াতগুলো রিমাইন্ডার।
আল-কাহফঃ ১৮:৪৬
ٱلۡمَالُ وَٱلۡبَنُونَ زِينَةُ ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَاۖ وَٱلۡبَٰقِيَٰتُ ٱلصَّٰلِحَٰتُ خَيۡرٌ عِندَ رَبِّكَ ثَوَابࣰا وَخَيۡرٌ أَمَلࣰا
ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি হল পার্থিব জীবনের (অস্থায়ী) জৌলুস। পক্ষান্তরে, স্থায়ী সৎকর্মসমূহ তোমার প্রভুর কাছে পুরস্কার হিসেবেও সেরা এবং আশার বস্তু হিসেবেও সেরা।
সুরা আল-এ-ইমরানঃ ৩:১০
إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ لَن تُغۡنِيَ عَنۡهُمۡ أَمۡوَٰلُهُمۡ وَلَآ أَوۡلَٰدُهُم مِّنَ ٱللَّهِ شَيۡئࣰاۖ وَأُوْلَٰٓئِكَ هُمۡ وَقُودُ ٱلنَّارِ
যারা (সত্যকে) অবিশ্বাস করে তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর সামনে তাদের কোনই কাজে আসবে না। আর তারাই হবে দোযখের জ্বালানি।
আল-মুনাফিকুনঃ ৬৩:৯
يَآأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تُلۡهِكُمۡ أَمۡوَٰلُكُمۡ وَلَآ أَوۡلَٰدُكُمۡ عَن ذِكۡرِ ٱللَّهِۚ وَمَن يَفۡعَلۡ ذَٰلِكَ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡخَٰسِرُونَ
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে না রাখে। যারা তা করে (যাদের অবস্থা তেমন) তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
সুরা আত-তাওবাঃ ৯:৫৫
فَلَا تُعْجِبْكَ أَمْوَٰلُهُمْ وَلَآ أَوْلَٰدُهُمْۚ إِنَّمَا يُرِيدُ ٱللَّهُ لِيُعَذِّبَهُم بِهَا فِى ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَتَزْهَقَ أَنفُسُهُمْ وَهُمْ كَٰفِرُونَ
অতএব তাদের ধন-সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততি যেন তোমাকে বিস্মিত না করে; আল্লাহর ইচ্ছা শুধু এটাই যে, এসব বস্তুর কারণে তাদেরকে পার্থিব জীবনে আযাবে আবদ্ধ রাখেন এবং তাদের প্রাণ কুফরী অবস্থায় বের হয়।
সুরা আত-তাওবাঃ ৯:২৪
قُلْ إِن كَانَ ءَابَآؤُكُمْ وَأَبْنَآؤُكُمْ وَإِخْوَٰنُكُمْ وَأَزْوَٰجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَٰلٌ ٱقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَٰرَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَٰكِنُ تَرْضَوْنَهَآ أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَجِهَادٍ فِى سَبِيلِهِۦ فَتَرَبَّصُوا۟ حَتَّىٰ يَأْتِىَ ٱللَّهُ بِأَمْرِهِۦۗ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلْفَٰسِقِينَ
(হে নাবী!) তুমি তাদেরকে বলে দাওঃ যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের পুত্রগণ, তোমাদের ভাইগণ, তোমাদের স্ত্রীগণ, তোমাদের স্বগোত্র, আর ঐ সব ধন সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছ, আর ঐ ব্যবসায় যাতে তোমরা মন্দা পড়ার আশংকা করছ অথবা ঐ গৃহসমূহ যেখানে অতি আনন্দে বসবাস করছ, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের চেয়ে এবং তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে যদি (এই সব) তোমাদের নিকট অধিক প্রিয় হয় তাহলে তোমরা প্রতীক্ষা করতে থাক যে পর্যন্ত আল্লাহ নিজের নির্দেশ পাঠিয়ে দেন। আর আল্লাহ আদেশ অমান্যকারীদেরকে পথ প্রদশর্ন করেন না।
সুরা আল-মুমিনুনঃ ৫৫-৫৬
(৫৫) أَيَحۡسَبُونَ أَنَّمَا نُمِدُّهُم بِهِۦ مِن مَّالࣲ وَبَنِينَ
(৫৬) نُسَارِعُ لَهُمۡ فِي ٱلۡخَيۡرَٰتِۚ بَل لَّا يَشۡعُرُونَ
তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে সাহায্য স্বরূপ যে ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি দান করি তদ্দারা –তাদের জন্য সর্ব প্রকার মঙ্গল ত্বরান্বিত করছি? না, তারা বুঝেনা –
সুরা আল-হাক্কাহঃ ২৫-২৯
وَأَمَّا مَنْ أُوتِىَ كِتَٰبَهُۥ بِشِمَالِهِۦ فَيَقُولُ يَٰلَيْتَنِى لَمْ أُوتَ كِتَٰبِيَهْ
وَلَمْ أَدْرِ مَا حِسَابِيَهْ
يَٰلَيْتَهَا كَانَتِ ٱلْقَاضِيَةَ
مَآ أَغْنَىٰ عَنِّى مَالِيَهْۜ
هَلَكَ عَنِّى سُلْطَٰنِيَهْ
কিন্তু যার ‘আমলনামা তার বাম হস্তে দেয়া হবে সে বলবেঃ ‘হায়! আমাকে যদি দেয়াই না হত আমার ‘আমলনামা! এবং আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব!
হায়! আমার মৃত্যুই যদি আমার শেষ হত!আমার ধনসম্পদ আমার কোন কাজেই এলোনা।আমার ক্ষমতাও বরবাদ হয়ে গেল’।
সুরা আল-আহকাফঃ ৪৬:২০
وَيَوۡمَ يُعۡرَضُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ عَلَى ٱلنَّارِ أَذۡهَبۡتُمۡ طَيِّبَٰتِكُمۡ فِي حَيَاتِكُمُ ٱلدُّنۡيَا وَٱسۡتَمۡتَعۡتُم بِهَا فَٱلۡيَوۡمَ تُجۡزَوۡنَ عَذَابَ ٱلۡهُونِ بِمَا كُنتُمۡ تَسۡتَكۡبِرُونَ فِي ٱلۡأَرۡضِ بِغَيۡرِ ٱلۡحَقِّ وَبِمَا كُنتُمۡ تَفۡسُقُونَ
সেদিনের কথা স্মরণ করো, যেদিন কাফেরদেরকে জাহান্নামের সামনে উপস্থিত করা হবে। (তাদেরকে বলা হবে,) “তোমরা তোমাদের ভাল জিনিসগুলো দুনিয়ার জীবনেই নিয়েছো এবং তা উপভোগ করেছো। অতএব, আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনাকর শাস্তির প্রতিফল দেওয়া হবে; কারণ, তোমরা দুনিয়ায় অন্যায়ভাবে অহংকার করতে এবং আল্লাহর আদেশের বিরোধিতা করতে।”
দুআ যেভাবে করতে পারি (উদাহরণ)
হে আমার রব, হে আল গাফুর তুমি নিজ গুনে তোমার বান্দাকে ক্ষমা করো। তোমার প্রদত্ত রিজিক যেন আমার জন্য পরীক্ষা হয়ে না উঠে। আমার হৃদয়কে এমন দ্রিড়তা দাও হে আল কাওয়ী, হে আল মাতিন, আমার সন্তান, চাকরি, পড়াশুনা, পরিবার-পরিজন কোনকিছুই আমাকে তোমার পথ থেকে বিচ্যুত না করতে পারে। শেষ বিচারের দিন যাদের আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে তুমি নিজগুনে আমাকে তোমার সেইসব বান্দার অন্তর্ভুক্ত করে নাও হে আল লাতিফ, হে আল ওয়াদুদ। তোমার দেওয়া সকল নিয়ামত যেন আমার জন্য দুনিয়া থেকে আখিরাত পর্যন্ত কল্যাণ বয়ে আনুক হে আন নাফি। তুমি আমার হৃদয়কে অহঙ্কার থেকে নিরপদ রাখো হে আল হাফিজ। জীবনের সকল অবস্থায় তোমার তাকওয়া অবলম্বনকে সহজ করে দিও হে আল কাদীর, হে আল আজীজ, হে আল মাজীদ।
(চলবে ইনশাআল্লাহ)
